📷 ওয়ানম্যান নিউজরুম কোলাজ

📷 ওয়ানম্যান নিউজরুম কোলাজ

শরীফ খিয়াম আহমেদ, ঢাকা

সীমানা ছাড়িয়ে দুই বাংলা, অর্থাৎ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে দেশজুড়ে মাজার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিস্তার লাভ করা এই সংকট নির্বাচিত সরকারের আমলেও নিয়ন্ত্রণে না আসার নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ‘ইসলাম নির্মূল নীতি’। যার জেরে বাংলাদেশের পরিণতি হতে পারে কাশ্মীরের চেয়েও ভয়াবহ।

বিস্ফোরক এই ভূ-রাজনৈতিক তত্ত্ব হাজির করেছেন বাংলাদেশি কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, যিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় যুগের শাসনের অবসান ঘটানো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত।

ঢাকার মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় প্রকাশের পর পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যখন তীব্র সমালোচনার মুখে, ঠিক তখন এই বিশৃঙ্খলাকে সরাসরি সীমান্ত-রাজনীতি এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার সাথে জুড়ে দিয়েছেন এক সময়ে বাম রাজনীতি করা এই আলোচিত বুদ্ধিজীবী।

ইরাকের বাগদাদ থেকে সাড়ে চারশ বছর আগে ধর্ম প্রচারে আসা হযরত শাহ আলী বোগদাদীর (রহ.) দরগাহ এলাকায় তাঁর ভক্ত-আশেকানদের ওপর হামলা হওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ফরহাদ মজহার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অনুধাবনের সক্ষমতা’ বা বোঝাপড়াকে সরাসরি কটাক্ষ করেছেন। দেশের এই প্রবীণ চিন্তক তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাতে মিরপুরে ওই সুফির দরবারে ভক্ত-আশেকানদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্তদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই হামলায় অংশ নিয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার (১৭ মে) মাজার প্রাঙ্গণে সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি আউলিয়া আশেকান পরিষদ ও ভাববৈঠকীর ব্যানারে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) নেতাদের সাথে নিয়ে উল্লিখিত রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রসঙ্গটির অবতারণা করেন ফরহাদ মজহার। সমাবেশ থেকে বক্তারা মাজারে হামলার জন্য শুধু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেই দায়ী করেননি, বরং হামলাকারীদের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা ‘শুভেন্দু অধিকারীর লোক’ বলেও দাবি করেন।

তবে মাজারে হামলার ভাইরাল হওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা প্রাথমিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। স্থানীয় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম শনিবার (১৬ মে ) রাতে সাংবাদিকদের জানান, সেদিনের হামলায় আক্রান্ত রেশমি বেগম নামের এক নারী ভক্ত নয় জনের নাম উল্লেখসহ জামায়াতে ইসলামীর অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ নেতাকর্মীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এই মামলা ও গ্রেপ্তারের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি বয়ান শুরু হয়। মামলার দিন রাতেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম তাঁর ‘ফেসবুক পোস্টে’ লেখেন, “শাহ আলী মাজারের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের না করে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে।” একই পোস্টের মন্তব্য অংশে জামায়াতের এই প্রভাবশালী নেতা আরও যোগ করেন, “নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তা স্পষ্টতই পলিটিক্যাল প্রতিহিংসাপ্রসূত এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।”

দৃশ্যত এই পুরো ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কমপক্ষে তিনটি ভিন্ন পক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। মাজার ভক্তরা একে দেখছেন সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পরিকল্পিত হামলা হিসেবে; পুলিশ একে চিহ্নিত করছে জামায়াত-শিবিরের কাজ হিসেবে; আর স্থানীয় এমপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতারা একে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান বা স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ বলে দাবি করছেন।

এমনই এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ঘটনার সম্পূর্ণ একটি নতুন ‘ন্যারেটিভ’ বা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে হাজির হয়েছেন ফরহাদ মজহার এবং তাঁর অনুসারীরা। একই দিন বিকেলে বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সিলেটে সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ছবিও প্রচার করেছে হাইকমিশন।

তারেক রহমানকে হুঁশিয়ারি

মাজার প্রাঙ্গণের প্রতিবাদ সমাবেশে সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “তারেক রহমান, (আমাদের) অনেক ব্যথা আছে,” মন্তব্য করে ফরহাদ মজহার বলেন, “আপনি ছিলেন লন্ডনে। আপনি বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। এদেশের গরিব মানুষের ব্যথা বোঝার চেষ্টা করেন। নইলে উড়ে যাবেন।”

প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, “আপনি এখানে (বাংলাদেশে) আসবার আগেই যখন আমরা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান করেছি, শুভেন্দু অধিকারী এই দেশে ঢুকবার জন্যে এই দেশে ঢোকার জন্য লোকজন নিয়ে সীমান্তে এসেছিল।” তারেক রহমানকে শুভেন্দুর সেই আচরণ ও সীমান্ত তৎপরতা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার সতর্ক করে বলেন, “এখন তারা বলছে যে, বাংলাদেশে এরকম মাজার ভাঙা হয়, এরকম যে ইসলামী সন্ত্রাস, এই তৌহিদী জনতা, এদের তো রাষ্ট্র রাখবার কোনো দরকার নাই। কাশ্মীর যে অধিকারটুকু পাইছিল, ওই অধিকারও তারা (ভারত) আপনাদেরকে দেবে না।”

এই চিন্তকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যারা বাংলাদেশে মাজার ভাঙার মতো অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, তারা মূলত দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে গেছে। মাজার ভাঙার ঘটনাগুলোকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘ইসলামী সন্ত্রাস’ হিসেবে তকমা দিয়ে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আর কোনো প্রয়োজনই নেই।

ফরহাদ মজহার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই ধরনের বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে এবং আধিপত্যবাদীরা সুযোগ পেয়ে যায়, তবে বাংলাদেশের অবস্থা কাশ্মীরের চেয়েও খারাপ হতে পারে, যেখানে কাশ্মীর একসময় যে বিশেষ স্বাচ্ছন্দ্যশাসন বা অধিকার ভোগ করত, সেই ন্যূনতম অধিকারটুকুও এদেশের মানুষ পাবে না।

হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফলে আপনারা যারা মাজার ভাঙছেন, আপনারা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে মাজার ভেঙেছেন।” তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে মাজার ভাঙচুর ও হামলা চালানো কেবল সাধারণ ধর্মীয় অবমাননাই নয়, বরং এটি ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করছে এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সেই ‘ইসলাম নির্মূল নীতি’ ত্বরান্বিত করছে, যা পুরো উপমহাদেশকে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়।

শুভেন্দু অধিকারীদের রাজনীতি মানুষের ভক্তির জায়গায় আঘাত করে সাম্প্রদায়িক সংগত উসকে দিচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ভারতে হিন্দুত্ববাদীরা মসজিদ ভাঙছে এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ভক্তির জায়গা ধ্বংস করছে। ফরহাদ মজহার যোগ করেন, “শুভেন্দু অধিকারী এখন কিন্তু পশ্চিমবাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির দলের যে নীতি, ইসলাম নির্মূল নীতি, এই নীতি তিনি বাস্তবায়ন করবেন।”

একই সমাবেশে মাজার হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারোয়ার তুষার সরকারের আইনশৃঙ্খলার চরম ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, “এর দায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে; যদি বাংলাদেশের মানুষকে আপনারা নিরাপত্তা দিতে না পারেন তাহলে চাকরি ছেড়ে দেন।”

শাহ আলী মাজারের আসন্ন বার্ষিক ওরসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে এর দায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। প্রয়োজনে আপনি এখানে এসে সুষ্ঠুভাবে, কীভাবে এখানে ওরস হবে সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার সরকারের।” তুষার আরও বলেন, “হামলাকারী যেই হোক তাকে গ্রেফতার করার দায়িত্ব আপনার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, এখানকার পুলিশ কর্মকর্তার। যদি না পারেন, তাহলে সমস্ত থানা বন্ধ করে দেন।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলটিমেটাম দিয়ে এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি মাজারের নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে এই ভক্ত-আশেকানদের নিয়ে আমরা আপনাদের সংসদে গিয়ে আশ্রয় নেব।” বিএনপির সালাউদ্দিন আহমেদ বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ‘সবচেয়ে অথর্ব’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার চেয়েও নিজেকে ‘অথর্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে’ ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলেও দাবি করেন এনসিপির এই যুগ্ম-আহ্বায়ক। এখানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হকও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন।

তবে মাজার প্রাঙ্গণে হামলা হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ওরসের প্রস্তুতি নিয়ে কথা প্রসঙ্গে মিরপুরের শাহ আলী মাজার প্রশাসনে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কর্মরত খন্দকার শফিকুল ইসলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আশার কথা শুনিয়েছিলেন ওয়ানম্যান নিউজরুমকে। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করা এবং সেখানকার ৭০৭তম ওরস মোবারক উপলক্ষে শিরনি আয়োজনের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে গরু দেওয়ার মতো ইতিবাচক ঘটনাগুলো মাজার ও ওলি-আউলিয়া ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

মাজারের সম্পত্তি সহকারী শফিকুল বলেন, “ওনার দৃষ্টিভঙ্গি, ওনার কাজকর্মের কারণে মানুষ আবার এই ধরনের যে ওলির মাজারকে ভালোবাসা যায়, সেখানে গেলে মাইর খাব না, সেখানে গেলে দোষী বলবে না, সেখানে গেলে গুনাহগার বলবে না, এই দৃষ্টিভঙ্গিটা অন্ততপক্ষে মানুষ পাল্টাবে।” তাঁর মতে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে এমন একটি একমুখী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে মাজারে যাওয়াকে ‘খুব গুনাহর কাজ’ বা ‘ঈমান শেষ হয়ে যাওয়ার’ মতো অত্যন্ত নেতিবাচক বিষয় হিসেবে সর্বত্র প্রচার করা হতো, এবং তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থান সেই ধারণা পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।

তবে ওয়ানম্যান নিউজরুমের ক্যামেরায় যখন শফিকুল ওরসের প্রস্তুতির কথা বলছিলেন, তখন তাঁর কণ্ঠের ভেতরে একটা প্রচ্ছন্ন শঙ্কা ও ভয়ও লুকিয়ে ছিল। নিয়তির নির্মম পরিহাস, যেদিন বিকেলে ওয়ানম্যান নিউজরুম তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল, ঠিক সেদিন রাতেই মাজারটিতে অতর্কিত হামলার ঘটনাটি ঘটে।

হামলার সময়ে মাজারে মূলত কী ঘটেছিল, তার আইনি ও বাস্তব বিবরণ নথিবদ্ধ রয়েছে মামলার প্রধান এজাহারে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা গভীর রাতে হঠাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র লাল কাপড়গুলো টানা-হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং উপস্থিত সাধারণ ভক্ত ও জিয়ারতকারীদের মারধর করে। এমনকি নারী ভক্তদের মারধর ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগও উঠে এসেছে মামলার এজাহারে।

মামলার এজাহারে ঘটনার বর্ণনায় বাদী রেশমি বেগম বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মিরপুরের শাহ আলী মাজার জিয়ারত করে আসছেন এবং বিভিন্ন সময়ে মাজারে বার্ষিক ওরস হলে তিনি সেখানে আস্তানা তৈরি করে ভক্তদের দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের সহযোগিতা করেন। প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরে মাজারে মানত ও জিয়ারতের জন্য হাজার হাজার সাধারণ লোকের সমাগম হয়। ঘটনার দিনও জিয়ারত ও মানত কার্যক্রম চলাকালে জামায়াতে ইসলামী ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০০ থেকে ১৫০ নেতা-কর্মী মাজারের প্রধান গেট দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢুকে তাঁদের ওপর এই আকস্মিক হামলা করেন।

রেশমি বেগম এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, হামলাকারীরা গাছের গোড়ায় থাকা মাজারের শিরনির বড় বড় ডেগের পবিত্র লাল কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এবং মোমবাতি জ্বালানোর বিশেষ প্লেটগুলো ভাঙচুর করেন। এতে তিনি নারী হয়েও বাধা দিতে গেলে তাঁকেও এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়, তাঁর পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করা হয়। এই তাণ্ডব ও ভাঙচুরে মাজারের প্রায় ৩০ হাজার টাকার জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া হামলাকারীরা সাধারণ জিয়ারতকারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে নগদ প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেছেন বলেও এজাহারে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। সেদিনের প্রত্যক্ষদর্শীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, যখন মাজারের ভেতরে এই ন্যক্কারজনক হামলা ও তাণ্ডব চলছিল, ঠিক তখন মাজারের প্রধান গেটের বাইরে পুলিশের চারটি টহল গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু তারা কোনো এক অজানা কারণে ভেতরে ঢুকে এই হামলা ঠেকানোর ন্যূনতম কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জামায়াত-শিবিরের আত্মপক্ষ সমর্থন

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং স্থানীয় এমপি আরমান হামলার দিন রাতেই মুঠোফোনে ওয়ানম্যান নিউজরুমকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি মূলত কোনো রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং এটি ছিল সাদা পোশাকে পুলিশের একটি বিশেষ গোপন অভিযান।

এটিকে কোনো রাজনৈতিক দলের হামলা বা আধ্যাত্মিক চর্চায় আঘাত হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, মাদক নির্মূল এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সারা দেশেই রাতের বেলা সাদা পোশাকে পুলিশের অভিযানের একটি সাধারণ রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা রয়েছে। যেহেতু এটি একটি বিশেষ কৌশলগত অভিযান, তাই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা মিডিয়ার কাছে বা প্রকাশ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করবেন না।

স্থানীয় এমপি ওয়ানম্যান নিউজরুমকে আরও জানান যে, মাজার এলাকায় মাদকসেবী এবং মাদক বিক্রেতাদের সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। তিনি উল্লেখ করেন, রাতের বেলা মাজারের উচ্চশব্দের গান-বাজনা আশপাশের সাধারণ মানুষ একদম পছন্দ করেন না এবং তাঁরা নিয়মিত এই বিষয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ নির্দেশনা এসেছে যেন রাতের বেলা সব জায়গায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয় এবং কোনো বিশৃঙ্খলা না থাকে, যা কেবল মাজার কেন্দ্রিক নয়, বরং পার্ক বা অন্যান্য জনসমাগমস্থলেও সমানভাবে করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলো বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, প্রথম থেকেই জামায়াত ও শিবিরের পক্ষ থেকে একে ‘পরিকল্পিত হামলার’ পরিবর্তে ‘মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ’ বা ‘পুলিশের অপারেশন’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রবিবার (১৭ মে) দলটির বিরুদ্ধে তোলা সমস্ত অভিযোগ “সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দেন। তিনি বিশেষ করে কবি ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই একটি বড় দলকে এভাবে দায়ী করা “অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।” তিনি দাবি করেন, জামায়াত কোনো “হামলা-সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না” এবং ঘটনার একটি “সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত” দাবি করেন।

এর আগে শনিবার (১৬ মে) ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ঘটনার সাথে তাঁদের সংগঠনের “দূরতম কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।” তারা একে “স্থানীয় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলা” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে, ছাত্রশিবিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এটি একটি “পরিকল্পিত অপপ্রচার।”

এছাড়া সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানালেও জামায়াতকে জড়ানোকে “রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার অপচেষ্টা” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। পাশাপাশি তিনি মাজারের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মাজার প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে” এবং কর্তৃপক্ষকে মাজারকে অনতিবিলম্বে “মাদকমুক্ত করতে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ” নেওয়ার জোর দাবি জানান।

জামায়াত ও স্থানীয় এমপির এই দাবির সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মো: মোস্তাক সরকার ও শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পুলিশ মাজারের ভেতরে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক অভিযান চালায়নি। তারা ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের ‘জামায়াত-শিবির’ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের মূলধারার সংবাদপত্র প্রথম আলো ও সমকাল প্রতিবেদন করেছে যে, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি শনাক্ত করেছেন। এই হামলার ঘটনায় সোমবার (১৮ মে) পর্যন্ত কোনো মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সরাসরি বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া যায়নি, মূলত জামায়াত-শিবিরের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে।

তবে পুলিশের ভাষ্য এবং কিছু ভিডিও ফুটেজ থেকে একটি ভিন্ন তথ্য জানা যায়। বর্তমান হামলার ঘটনার কয়েক দিন আগে (মে মাসের প্রথম সপ্তাহে) স্থানীয় যুবদল নেতা সাজ্জাদুল মিরাজের নেতৃত্বে ওই মাজারে প্রায় একই ধরনের একটি ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানো হয়েছিল। ডিএমপির মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইমদাদ হোসাইনও গণমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, “গত সপ্তাহেও স্থানীয় বিএনপি নেতা মিরাজের নেতৃত্বে মাজারে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়।”

কাল থেকে ওরস, জামায়াত নিয়ে বিভক্তি

একদিকে একদল ভক্ত ও সংগঠক জামায়াতের কাউকে শাহ আলী মাজারে ঢুকতে দিতে নারাজ, অন্যদিকে আরেকজন নেতা এমপিকে তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য মাজারে আসার তাগিদ দিচ্ছেন। এমনই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল (১৯ মে) শুরু হচ্ছে শাহ আলী মাজারের বার্ষিক ওরস।

সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাববৈঠকীর প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ রোমেল ওয়ানম্যান নিউজরুমকে জানিয়েছেন, গরিব-অসহায় ভক্তদের বাড়তি সাহস দিতে এই তিন দিন গণঅবস্থান নিয়েছেন তাঁরা। সেখানে সমাজের নানান মতের রাজনৈতিক নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী, কবি ও লেখকদের অংশগ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আগের দিন সমাবেশে ফরহাদ মজহার জানান যে, তিনি দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ দেখেছেন যেখানে মাজার ভাঙার সাথে জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়েছে, যা শুনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে তাদের কিছু পুরোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোঁড়ামির সমালোচনা করেন। যেমন, নির্বাচনের আগে তারা ঠিক কোন ধর্মীয় ভিত্তিতে ‘নারীর নেতৃত্ব হারাম’ বলে প্রচার করেছিলেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জামায়াত ও তাদের সমমনাদের ‘গান হারাম’ বলার তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন করেন যে, কোরআনের কোন নির্দিষ্ট আয়াত দিয়ে তাঁরা গানকে হারাম বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি এর আগে এই সমস্ত বিষয়ে তাঁদের প্রকাশ্যে বাহাস বা তর্কে আসার আহ্বান জানালেও তারা কখনো আসেননি।

এছাড়া সারোয়ার তুষার স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে তাঁকে একজন ‘নির্যাতিত মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যিনি নিজে স্বৈরাচারী আমলে দীর্ঘ সময় গোপন ‘আয়নাঘরে’ বন্দি ছিলেন। তুষার বলেন, “যেহেতু আরমান ভাই নিজে জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যারা মজলুম বা জুলুমের শিকার হচ্ছে, তাদের যন্ত্রণা তাঁর সবচেয়ে ভালো বোঝার কথা।”

মাজার হামলার চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় এমপি সেখানে নিজে না আসায় এবং মাজারের ভক্তবৃন্দের পাশে এসে না দাঁড়ানোয় দুঃখ প্রকাশ করে তুষার বলেন, “এটি বুঝতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি আরমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আসন্ন তিন দিনের ওরসে তাঁকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে এবং এই ওরস যাতে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব তাঁর নিজের।

তবে পরদিনই (১৮ মে) বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দপ্তর সচিব ও ইসলামী ছাত্রসেনার সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম বলেছেন, “এই মাজারে জামায়াতের কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। আমরা বেঁচে থাকতে এই মাজারে তাকে ঢুকতে দেব না।”

এদিনও মাজার ঘিরে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমনই এক সমাবেশ থেকে আব্দুল হাকিমসহ ইসলামী ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ হামলাকারীদের নমরুদ, ফেরাউন ও আবু জাহেলের উত্তরসূরি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বক্তারা তাঁদের “৭১-এর পরাজিত শক্তি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যারা দেশ থেকে সুন্নি ইসলাম এবং মাজহাবকে মুছে ফেলতে চায়।

ইসলামী ছাত্রসেনার বর্তমান সভাপতি আজাদ হোসাইন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি দ্রুত এদের লাগাম টেনে ধরুন, নয়তো আপনার অবস্থা খুবই ভয়াবহ হবে।” তিনি আরও বলেন, “আপনি ইউনূসের পথে হাঁটবেন না। ইউনূসের পথে হাঁটলে আপনি এই দেশে টিকে থাকতে পারবেন না।”

সংশোধনী ও সম্পাদকের নোট: সংবাদের শুরুতে ফরহাদ মজহারকে ‘এক সময়ে বাম রাজনীতি করা এই উদারমনা ডানপন্থী বুদ্ধিজীবী’ উল্লেখ করা হয়েছিল; যা পরবর্তীতে সংশোধন করে “এক সময়ে বাম রাজনীতি করা এই আলোচিত বুদ্ধিজীবী” লেখা হয়েছে। তাঁর সহযোদ্ধা ও কবি মোহাম্মদ রোমেলের ভাষ্যমতে, এই বিশেষণটি ব্যবহারে সাধারণ পাঠকের কাছে ভুল বার্তা যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ওয়ানম্যান নিউজরুম মূলত যে তাত্ত্বিক অর্থে তাঁকে ‘উদারমনা ডানপন্থী’ বলেছিল, তা সবার কাছে স্পষ্ট নাও হতে পারে। তাঁর এই যৌক্তিক শঙ্কার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা বিশেষণটি পরিবর্তন করেছি।

মন্তব্য করুন

Designed with WordPress

Discover more from One-man Newsroom বাংলা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading