📷 সিপিআই(এম)

পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার চালিয়ে হকার ও বস্তিবাসী উচ্ছেদের প্রতিবাদ; মাঠে নেমেছে বাম সংগঠনগুলো।

📷 সিপিআই(এম)

নজরুল আহমেদ জমাদার, কলকাতা

এ যেন বুলেট ট্রেনের গতিতেই চলছে বুলডোজার। হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম হয়ে যাদবপুর—বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হচ্ছে গরিব হকার ও বস্তিবাসীদের। ইতিমধ্যেই হাওড়া, শিয়ালদহ ও দমদম স্টেশন বুলডোজার দিয়ে সাফ করে দেওয়া হয়েছে।

যাদবপুর স্টেশন চত্বরে বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে কিছুদিন আগেই হকার ও বস্তি উচ্ছেদ করতে এসে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল ফ্যাসিস্ট বাহিনী। সেদিন পুলিশ জানিয়েছিল, আপাতত ২১ দিন যাদবপুরে তারা হকার উচ্ছেদ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। কিন্তু সেই কথা থেকে পিছিয়ে এসে রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে আবার যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার এবং বস্তি উচ্ছেদ করতে আসে তারা। একইভাবে তারা প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়।

কিন্তু এবার আর কোনো কথা নয়। যারা হকার ও বস্তি উচ্ছেদে বাধা দেন, তাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ নেমে আসে। আক্রান্ত হন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যসহ আরও অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনের কর্মীরা। বিশেষ সূত্রে খবর, প্রায় ১২ জন বামপন্থী কর্মী পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জোর করে বেশ কিছু দোকান ও বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। যদিও প্রবল প্রতিরোধের মুখে এখনো ফ্যাসিস্ট বাহিনীর পুরোপুরি লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এর প্রতিবাদে আজ (৮ জুন) ধিক্কার মিছিলের ডাক দিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলো।

সবেমাত্র এক মাস হলো পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এই এক মাসে নতুন সরকারের উন্নয়নের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ চিত্র হলো ‘বুলডোজার মডেল’। অর্থাৎ, বুলডোজার দিয়ে একের পর এক হকার ও বস্তি উচ্ছেদ করে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে নতুন সরকার। সামনের দিনগুলোতে এই মডেল আরও প্রকট হবে। যদিও ভোটের আগে তাদের রাজনৈতিক প্রচারে বা ইশতেহারে এই ধরনের কোনো মডেলের কথা বলেনি বিজেপি, কিন্তু এটি যে কোনো নতুন মডেল—এমনটা নয়।

দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, আসামসহ বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই মডেল অত্যন্ত পরিচিত। দিল্লিতে বস্তি উচ্ছেদের সময় বিজেপির শাসনকে অনেকেই রূপক অর্থে ‘বুলডোজার রাজ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

📷 আমি চাড্ডি নই

পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজারের মাধ্যমে হকার ও বস্তি উচ্ছেদ নিয়ে জোর চর্চা হলেও এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একে বৈশ্বিক আলোকেই বিশ্লেষণ করা জরুরি। সমসাময়িক বিশ্বেই “বুলডোজার মডেল” একটি শক্তিশালী ‘পলিটিক্যাল’ (রাজনৈতিক) রূপক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা উন্নয়ন ও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত চরিত্রকে উন্মোচন করে। এই মডেলকে দুটি ভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করা জরুরি। আরও পরিষ্কার করে বললে, এই মডেলের দুটি ভিন্ন লক্ষ্য বা পন্থা আছে।

প্রথমটি হলো, কর্পোরেট-নিয়ন্ত্রিত নগর উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ। অন্যদিকে দ্বিতীয়টি হলো, রাষ্ট্রের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল হিসেবে বলপ্রয়োগমূলক উচ্ছেদ। প্রসঙ্গত, এই মডেলের দুটি দিকই বর্তমান বিশ্বে বিদ্যমান। প্রথম দিকটি ইউরোপ, আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের উন্নয়ন মডেলের একটা কৌশল। আর দ্বিতীয় দিকটিকে আমরা খুব সচেতনভাবেই ‘ইসরায়েলি মডেল’ হিসেবে দেখতে পারি। লক্ষণীয়, বুলডোজার মডেলের এই দুটো দিকই বর্তমান ভারত রাষ্ট্র তার নাগরিকদের ওপর খুব সফলতার সঙ্গেই প্রয়োগ করছে—যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

বুলডোজার মডেলের প্রথম দিকটি বিশ্লেষণ করলে আমরা খুব পরিষ্কারভাবেই বুঝতে পারব যে, ‘নিওলিবারেল’ (নব্য-উদারবাদী) অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে শহরকে একটি ‘ইনভেস্টমেন্ট সাইট’ (বিনিয়োগের ক্ষেত্র) হিসেবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বিখ্যাত মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ডেভিড হার্ভের “অ্যাকুমুলেশন বাই ডিসপজিশন” (হরণের মাধ্যমে পুঁজি সঞ্চয়ন) তত্ত্ব অনুযায়ী, পুঁজিবাদ তার সম্প্রসারণের জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ ও স্থান দখল করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জমি, সম্পদ ও জীবিকা কেড়ে নিয়ে তা কর্পোরেট পুঁজির হাতে তুলে দেওয়া হয়। হকার উচ্ছেদ এই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার একটি অংশ, যেখানে ‘আরবান স্পেস’ (নগর পরিসর) পণ্য হিসেবে পুনর্গঠন করা হয়।

ভারতীয় শহরগুলোতে হকার উচ্ছেদ, বস্তি উচ্ছেদ এবং ফুটপাত পরিষ্কার করার নামে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আসলে নগর স্থানকে কর্পোরেট পুঁজির জন্য প্রস্তুত করার একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ‘বিউটিফিকেশন’ (সৌন্দর্যায়ন) এবং ‘স্মার্ট সিটি’ (আধুনা নগর) ধারণাকে সামনে রেখে মধ্যবিত্তের সম্মতি অর্জন করা হয়। যেমন—হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন, দমদম স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশন কার্যত বুলডোজার দিয়ে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বস্তি উচ্ছেদ হচ্ছে।

লক্ষ্য একটাই, আদানি-আম্বানিদের হাতে এই জায়গাগুলো ছেড়ে দেওয়া, যেখান থেকে তারা কোটি কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করবে। বিনিময়ে চরম মূল্য চকাতে হবে গরিব হকার ও বস্তিবাসীদের। ভারতবর্ষে বিভিন্ন রাজ্যের পর পশ্চিমবঙ্গে এই যে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, এর কারণ হিসেবে রাষ্ট্র একটা গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি দিচ্ছে—তা হলো, এই ধরনের পদক্ষেপ শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানবাহন চলাচলের সুবিধা এবং নগর নান্দনিকতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু এই “উন্নয়ন”-এর অন্তরালে লুকিয়ে থাকে এক শ্রেণীগত রাজনীতি ও পুঁজিবাদী পুনর্গঠনের প্রশ্ন।

শুধু তাই নয়, ‘বুলডোজার মডেল’ মূলত উন্নয়নকে একটি ‘স্পেস ক্লিয়ারিং’ প্রক্রিয়া হিসেবে কল্পনা করে, যেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ‘অবাঞ্ছিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই মডেলটি মূলত একটি “টপ-ডাউন ডেভেলপমেন্ট” (উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া উন্নয়ন) কাঠামোর উপর নির্ভরশীল। এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে রাষ্ট্র ও কর্পোরেট সংস্থার হাতে, এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রায় অনুপস্থিত।

এই ধরনের উন্নয়ন ইউরোপীয় আধুনিকতার ধারায় গড়ে ওঠা, যেখানে শৃঙ্খলা, নান্দনিকতা ও পরিকল্পিত নগরায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়; কিন্তু জীবিকা ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু নগর অধিকারের প্রশ্নে ফরাসি দার্শনিক অঁরি ল্যফেভ্র তাঁর “রাইট টু দ্য সিটি” (শহরের ওপর অধিকার) ধারণার মাধ্যমে যুক্তি দেন যে, শহর কেবলমাত্র পুঁজিপতি বা রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়; বরং যারা শহরে বসবাস করে এবং শ্রমের মাধ্যমে শহরকে জীবন্ত রাখে, তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে। হকারদের উচ্ছেদ এই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, কারণ এটি তাদের নগর জীবনে অংশগ্রহণ ও অধিকারকে অস্বীকার করে।

ভারতের নগর অর্থনীতির একটি বড় অংশই “ইনফরমাল ইকোনমি” (অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি)-র উপর নির্ভরশীল। হকাররা কেবলমাত্র জীবিকা নির্বাহই করে না, তারা শহরের অর্থনৈতিক চক্রকে সচল রাখে। কিন্তু রাষ্ট্র “ফরমালিয়ালাইজেশন” (আনুষ্ঠানিকীকরণ)-এর নামে এই সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ বা ধ্বংস করার চেষ্টা করে, যা আসলে বড় পুঁজির জন্য বাজার তৈরি করার একটি কৌশল। কিন্তু রাষ্ট্র কেন এটা করতে পারে? একটাই কারণ—তারা এই প্রক্রিয়ায় মধ্যবিত্তের সমর্থন আদায় করতে পারে, যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে আমরা দেখতে পাচ্ছি। গরিব হকার ও বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, আর মধ্যবিত্ত উল্লাস করছে।

উন্নত রাস্তা, শপিং মল, ব্রিজ ইত্যাদির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের বোঝানো হয় যে, এই উন্নয়ন তাদের জন্যই। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি “ক্লাস-বায়াসড ডেভেলপমেন্ট” (শ্রেণী-পাক্ষিক উন্নয়ন), যেখানে মধ্যবিত্তের নান্দনিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে নিম্নবিত্তের জীবিকা ধ্বংস করা হয়।

বুলডোজার মডেলের দ্বিতীয় দিকটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং প্রবলভাবে রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম। আফ্রিকান দার্শনিক আশিল মবেম্বের ‘নেক্রোপলিটিক্স’ (মরণ-রাজনীতি) ধারণা অনুযায়ী, আধুনিক রাষ্ট্র কেবল জীবন পরিচালনা করে না, বরং কারা বাঁচবে এবং কারা প্রান্তিক হয়ে পড়বে তা-ও নির্ধারণ করে। এই প্রেক্ষাপটে বস্তি উচ্ছেদ বা হকার উচ্ছেদকে দেখা যায় একটি ‘ডিসিপ্লিনারি মেকানিজম’ (শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা) হিসেবে, যেখানে রাষ্ট্র শহরের “অনাকাঙ্ক্ষিত” জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি একটি “আদারাইজেশন” (পরকরণের) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে গরিব মুসলমানদের উচ্ছেদ করা হয়।

বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথমে তাদের ‘বেনাগরিক’ করা হবে, তারপর তাদের ভূমি জোর করে দখল করা হবে। ওয়েস্ট ব্যাংক এবং গাজায় বহু বছর ধরেই ইসরায়েলি বাহিনী এই মডেল অনুসরণ করেই ফিলিস্তিনিদের ভূমিচ্যুত করেছে এবং করে চলেছে। দিল্লিতেও দু-বছর আগে মুসলমানদের বস্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যদিও তখন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাত আদালতের হস্তক্ষেপে সেটা আটকেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গেও বহু জায়গায় ইতিমধ্যেই মুসলমানদের বস্তি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যেগুলো মিডিয়ার খবরে আসছে না। এখানেও রাষ্ট্র সংখ্যাগুরু শ্রেণীর সম্মতি উৎপাদন করছে এই বলে যে—মুসলমানরা তাদের সমস্ত চাকরি নিয়ে নিচ্ছে এবং তারা এই পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করে দেবে। ফলে খুব সহজেই রাষ্ট্র এই কাজ করতে পারছে।

কিন্তু এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে আমাদের করণীয় কী? অবশ্যই এই মডেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যাদবপুরের মতোই বিভিন্ন জায়গায় দিকে দিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু শুধু আন্দোলন এবং প্রতিরোধ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হবে না; দরকার বিকল্প উন্নয়ন মডেল। যে মডেল হবে পশ্চিমা সরলরৈখিক ও ‘টপ-ডাউন’ পদ্ধতির বিপরীতে একটি ভিন্ন এবং নিজস্ব মডেল। যা গড়ে উঠবে বৈশ্বিক পুঁজির বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজ ভূমির প্রাণ, প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রেখে। নতুন করে গ্রামীণ অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে।

ল্যাটিন আমেরিকায় বহু আগেই পশ্চিমা মডেলের বিপরীতে “পার্টিসিপেটরি ডেভেলপমেন্ট” (অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন মডেল) চালু হয়ে গেছে, যেখানে উন্নয়নে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকে এবং সেই উন্নয়ন হয় তাদের সংস্কৃতি, ভূমি ও নিজস্বতার ওপর ভিত্তি করে। সেই চর্চা আজও পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষে গড়ে ওঠেনি।

লেখক: গবেষক, সাংবাদিক ও গণআন্দোলনকর্মী।

মন্তব্য করুন

হলি আর্টিজান স্মরণের দিনেই মাজারে শরিয়ত প্রতিষ্ঠায় আল্টিমেটাম!

ওরসে বাউল গানেও আপত্তি রূপগঞ্জের ওলামাদের, ‘জঙ্গি’ ট্যাগিংয়ের অভিযোগ।

Designed with WordPress

Discover more from One-man Newsroom বাংলা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading