জানেন তো সামু, মানে বাংলা ব্লগ সামহোয়্যার ইনের বেশ পুরানো ব্লগার নির্মাতা রাসেল আহমেদ । যাদুকর… নিকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সংগ্রামী মানুষটির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নৃ । আর্থিক সঙ্কটে স্যুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়া এ চলচ্চিত্রের অফিসিয়াল টিজার অবশ্য ভা্র্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে বেশ সাড়া ফেলেছে । বিশ্বের ৫৫টি দেশ থেকে দেখা হয়েছে এটি। বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বেশী দেখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ভারত থেকে। ইউটিউব পরিসংখ্যান এ তথ্য জানিয়েছে। সম্প্রতি এ সাইটে নৃ’র টিজারটি আপলোড করা হয়। আরো যেসব দেশ থেকে টিজারটি বহুবার দেখা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অষ্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, ইতালি, সুইডেন, ফ্রান্স, রোমানিয়া, গ্রীস, জাপান, সাউথ কোরিয়া, মালয়শিয়া ও জার্মানি অন্যতম। নৃ’র ফেসবুক পেইজে মোট ৪২ দেশের অনুসারী রয়েছে বলে জানা গেছে।

সঙ্কট কাটবে, সিনেমাটিও শেষ হবে – এমনটাই প্রত্যাশা টিজারের দর্শকদের। চলচ্চিত্রটি নিয়েও দারুণ আশাবাদী তারা। ইউটিউব থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন ব্লগেও শেয়ার হয়েছে টিজারটি। সব জায়গাতেই এটির ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত এসেছে। শেয়ার হয়েছে কয়েক হাজার বার।

নৃ’র অবস্থা নিয়ে নিউইয়র্ক প্রবাসী লেখক কূলদা রায় ফেসবুক এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘মাধবপাশা বরিশাল শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। আমি বহুবার গেছি। এই পথে গুঠিয়া , চাখার, বানারীপাড়া স্বরূপকাঠি যেতে আসতে মাধবপাশায় নেমে পড়তাম। আমার পিঠে শিবকালী ভট্টাচার্যের এগার খণ্ড। আমি ঔষধী গাছ খুঁজতে বেরিয়েছি। গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই দুর্গাসাগর। শান্তশ্রী এই দীঘির সিঁড়িতে বসে থেকে দেখেছি–জলের উপরে পাখি এসে নামে। তার ছায়া উড়ে যায়। মাঝখানে একটুকু দ্বীপ। হাওয়ায় কাঁপে। এই মাধবপাশায় স্বদেশি আন্দোলনের সময়ে অনশন করেছিল গ্রামের মানুষ। পঞ্চাশের দাঙ্গায় একদিনে মেরে ফেলা হয়েছিল ২০০ জনকে। কিন্তু দুর্গাসাগর এখনো সুন্দর হয়ে আছে। হয়তো সুন্দর এরকমই। সুন্দরকে সুন্দরই থাকতে হয়। তাকে শ্রী বলে ডাকি। দুর্গাসাগর নিয়ে একটি ফিল্ম হচ্ছে। নাম নৃ। কোনো তরুণ করছেন। আমি তাকে চিনি না। কিন্তু দুর্গাসাগরকে চিনি বলেই তাকে অচেনা মনে হয়না। ফিল্মটি আটকে আছে ৮৫ ভাগ হওয়ার পর। টাকা নেই। ভালো কাজে টাকা থাকে না- এটা খুব স্বাভাবিক। তবু তাকিয়ে আছি দুর্গাসাগরের দিকে। কেউ হয়তো আসবেন। তখন নৃ ফিল্মটি দুর্গা সাগরকে নিয়ে শ্রী হয়ে উঠবে।’

একইভাবে টিজারটি ফেসবুকে শেয়ার করতে গিয়ে নৃ’র শুভানুধ্যায়ী অনার্য তাপস লিখেছেন, ‘শুভেচ্ছা রাসেল আহমেদ এবং তার দলকে। যারা অনেক মমতা নিয়ে, অনেক যত্ন করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। আমার ব্যক্তিগত ভালোলাগা এবং আগ্রহ আছে চলচ্চিত্র নৃ কে নিয়ে। এই দলটির ক্যাপ্টেন রাসেল আহমেদ, গুরুত্বপূর্ণ কাণ্ডারি ঈয়নসহ নৃ এর সাথে যুক্ত অনেকেই আমার ব্যক্তিগত বন্ধু। চলচ্চিত্র নিয়ে তাদের চিন্তা, আগ্রহ, কর্মকাণ্ড আমাকে আকৃষ্ট করেছে। আমি খুব কাছ থেকে তাদের প্রসব বেদনার কষ্ট প্রত্যক্ষ করেছি, করছি। দীর্ঘ দিন ল্যাপটপ বন্দী হয়ে থাকতে থাকতে নৃ যখন বিধ্বস্ত ঠিক তখনই নৃর এই অফিসিয়াল ট্রেলার আমাকে মুগ্ধ ও বিস্মিত করেছে। ৮৫% স্যুটিং শেষ হওয়া এই চলচ্চিত্রটির পুরো টিম যে বিপুল জী বনী শক্তির অধিকারী সেটা আবারও প্রমাণিত হলো। এখন অপেক্ষা, কবে আর্থিক দৈন্য তা কাটিয়ে এই চলচ্চিত্রটি শতভাগ কাজ শেষ করে দর্শকদের সামনে আসতে পারে- তার জন্য। কাল-কলা-কৌশলে নৃ কতটা পরিপক্ক, আধুনিক তা জানার জন্যও এর পুরো কাজ শেষ হওয়া দরকার। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা থাকলো নৃ’র জন্য। সেই সাথে থাকলো কিছুটা দুশ্চিন্তা। কবে কাটবে আঁধার? অর্থনীতির চাকা কবে সচল হবে রাসেল আহমেদের?’ 

এদিকে টিজারের ব্যাপারে মো: খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘আমি অভিভূত। অসাধারণ ক্যামেরা শট, এ্যানিমেশন, অভিনয়, মেকিং। এটা বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে একটা মাইলস্টোন হতে পারে। ফুল ভার্সন দেখে পরিতৃপ্ত হতে চাই। অধীর আগ্রহে থাকলাম।’ সৈয়দ হিমু বলেছেন, ‘ওয়ান অব দ্যা বেস্ট আই এভার সিন।’ তপন গোস্বামী বলেছেন, ‘শুরু দেখে মনে হচ্ছে, একটি অসাধারণ ছবির জন্ম হতে চলেছে।’ তাওফিক নেওয়াজ বলেছেন, ‘অপু আর দূর্গার কথা মনে পড়ে গেলো।ট্রেইলার দেখে মনে হচ্ছে অসাধারণ একটা ছবি হয়েছে নৃ।দেখার অপেক্ষা রইলো। নৃ ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য শুভকামনা । মঙ্গল হোক সবার, জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।’

আরেক দর্শক রাজীব হাসান বলেছেন, ‘কিছু ভালো কাজ হোক। জীবনের আয়তন বেড়ে হোক মহান জীবন, মানুষ মানুষকে দেখুক। দেখুক জীবন, অনাদরে ভেসে আসা ভেসে যাওয়া নিশ্চুপ, নিষ্ফল রাত-দিন, আরো আরো কাজ হোক। মানুষ প্রেরণা পাক।’ ফয়জে হাসান লিখেছেন, ‘অসাধারন সিনেমাটোগ্রাফী এং কম্পোজিসন।’ এছাড়া ওপার বাংলার দর্শক সৌমিক ঘোষ বলেছেন, ‘অসামান্য কয়েকটা শট তারকোভস্কি মনে পড়াল!’ 


এর আগে ইস্টিশন ব্লগের ডা. আতিকুল হক লিখেছেন, ‘নৃ মানে মানুষ। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়ও মানুষ। সেই মানুষের গল্প, মানবতার জয়গানের গল্প নিয়ে রাসেল আহমেদ তৈরি করছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “নৃ”। ট্রেইলার দেখে মুগ্ধ হলাম।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘এমনিতে রাসেল ভাইয়ের কাজ আগে দেখিনি। ফেসবুকে উনার কিছু কিছু স্থিরচিত্র দেখে মুগ্ধতার সূচনা। নৃ চলচ্চিত্রের ট্রেইলার দেখে আমি খুব আশাবাদী অত্যন্ত ভালো মানের একটি চলচ্চিত্র যোগ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ভাণ্ডারে। অধীর হয়ে অপেক্ষায় আছি মানুষের জয়গান দেখার জন্য। “নৃ” চলচ্চিত্রের সফলতা কামনা করছি…।’

মানুষ শুধু ‘ভা্র্চুয়ালি’ নয়, ‘একচুয়ালি’ও সাড়া দিচ্ছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নৃ’র নির্মাতা রাসেল আহমেদ। এ নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘অবাক হইনি। বরং বারংবার নিষিক্ত হয়েছি ভালোবাসায়। টাকার জন্য আটকে আছে চলচ্চিত্র- নৃ এর শেষভাগের শুটিং; এরকম একটা খবর ভার্চুয়ালি প্রচার হবার পর প্রচুর মানুষের এগিয়ে আসা টের পাচ্ছি। ভালোলেগেছে তাদের মুখে- এরকম একটা ভালো কাজ আটকে থাকতে পারে না শুনে। যে যার মতো করে সাহায্যের প্রস্তাব দিচ্ছে। যার যার সামর্থ্যের সিমানায় দাঁড়িয়ে।’ নতুন করে বুঝতে পারছি- মানুষ ও মনুষত্ব্য এখনো ফুরিয়ে যায়নি। একা একা মানুষগুলো এগিয়ে আসছে একাকার হবার বাসনায়।’এর আগে টিজার প্রসঙ্গে রাসেল বলেছিলেন, ‘স্যুটিং বাকি আছে আরও। এডিটিং, ডাবিং/সাউন্ড/মিউজিক ডিজাইন ইত্যাদি আরও পরের পদক্ষেপ। এর মাঝেও টিজার এর আদলে কিছু ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ হলো মূলত অনেকের দাবির প্রেক্ষিতেই। এটাকে আবার ফুল প্রোমোশনাল ট্রেইলার ভেবে ভুল করবেন না।’

আমাদের সহযোদ্ধা, মানে এক ব্লগার নির্মাতার এই সন্তান বা একটি সুস্থ-সামাজিক ধারার চলচ্ছিত্রকে বাঁচাতে আমরা কি কিছুই করতে পারি না? সকল বাংলা ব্লগের ব্লগারদের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন রেখেই আহবান জানাচ্ছি- আসুন, নৃ’র পাশে দাঁড়াই। সবাই মিলে চেষ্টা করলে বিদ্যমান বাঁধা নিশ্চয়ই অতি তুচ্ছ হয়ে যাবে; সঙ্কট মোচনও তরান্বিত হবে। 

এখানে আরো কিছু কথা না বললে পুরো বিষয়টা পরিস্কার হবে না। চিত্রায়নের মাত্র ১৫ ভাগ কাজ বাকি। তবু স্বস্তিতে নেই নৃ’র নির্মাতা ও তার ইউনিট। কারণ – আবারো অর্থসঙ্কট। আটকে গেছে কাজ। অবশ্য দ্রুতই এ সঙ্কট কাটানোর চেষ্টা করছে প্রযোজক সংস্থা থিম থিয়েটার উইজার্ড ভ্যালী। শুদ্ধতার অঙ্গিকার আর বিভেদ ছাপিয়ে মাখামাখি হওয়ার গল্প নিয়ে নির্মানাধীণ এ চলচ্চিত্র এর আগেও একই সঙ্কটে পরেছিলো।

উইজার্ড ভ্যালীর কর্ণধার ও নির্মাতা রাসেল আহমেদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির টাকায় ২০১২ সালের আগস্টে শুরু হয়েছিলো নৃ’র কাজ। প্রাথমিক মূলধন হিসাবে ওই টাকা ছিলো নিতান্তই অপ্রতুল। ছয় মাসের প্রস্তুতির পর ২০ দিনের স্যুটিংয়ে (গত বছরের এপ্রিলে) তা শেষ হয়ে যায়। তীব্র অর্থসঙ্কটে পরে নৃ ইউনিট। ওই সময়ে উইজার্ড ভ্যালী’কে আর্থিক সহযোগিতা দিতে এগিয়ে আসেন সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ি ডা. আরিফুর রহমান। আমাদের বরিশাল ডটকম নাকম একটি অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ দেখেই তিনি নৃ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। পরে ফেসবুক পেইজের কল্যাণে তার সাথে নৃ টিমের যোগাযোগ হয়। আর ‘বরিশাইল্যাইজম’ তাকে এই টিমের পাশে এনে দেয়। মূল ভিত্তি বরিশালকেন্দ্রিক হওয়ার কারণেই চলচ্চিত্রটির পাশে দাঁড়াবার ইচ্ছা পোষণ করেন বরিশালের সন্তান ডা. আরিফ। তার সহায়তায় গত ২৫ অক্টোবর বরিশালের বানারীপাড়ার নরোত্তমপুর গ্রামে পুনরায় চিত্রায়নের কাজ শুরু হয়।

এর আগে প্রথম দু’দফায় (গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে) মোট ২০ দিনে সিনেমার ইনডোরের অধিকাংশ কাজ শেষ করেছিলো নৃ ইউনিট। তাই শেষ দফার বেশিরভাগ কাজই ছিলো আউটডোর নির্ভর। প্রথম দু’দিন বৈরি আবহাওয়ায় বিঘ্নিত হয় কাজ। তৃতীয় দিনে বৃষ্টি কমলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। টানা ৬০ ঘন্টার হরতালে বিঘ্নিত হয় স্যুটিং। এ সময় পুলিশী হয়রানিরও স্বিকার হন নৃ ইউনিটের সদস্যরা। এসব বাঁধা পেরিয়েই বানারীপাড়াসহ বরিশাল মহানগরীর এপিফানী গির্জা, মহা-শ্মশান, নগর উপকণ্ঠের ঐতিহাসিক জলাধার দূর্গাসাগর এবং এর আশেপাশের এলাকায় কাজ চলেছে। তবে বেড়েছিলো খরচ। এরই প্রেক্ষিতে নভেম্বরে আবারো টাকা শেষ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় চিত্রায়নের কাজ। পুনরায় অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করে উইজার্ড ভ্যালী। সাংবাদিকদের তারা জানিয়েছে, শিগগিরই চলচ্চিত্র নৃ’র ‘টাইটেল স্পন্সর’ ও ‘কো-স্পন্সর’ চূড়ান্ত করা হবে। নতুন কো-প্রডিউসারও খোঁজা হবে। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছেও সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নৃ ইউনিটের সদস্যরা জানান, তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হলেও কেউই হতাশ নন। তাদের প্রত্যাশা, ‘চলতি মাসের মধ্যেই আর্থিক সঙ্কট কেটে যাবে। সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী মূল্যবোধ জাগানিয়া গল্পের এই সিনেমাটি দ্রুত শেষও হবে।’

আলাপকালে নির্মাতা রাসেল আহমেদ বলেন, ‘চলচ্চিত্রটি শুরু করেই আমি টের পেয়েছি- এ অঞ্চলে স্বকীয়তা ও নিজস্ব ভাষা শৈলী নিয়ে একটি আন্তর্জাতিকমানের পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র পরিস্ফূটনে রয়েছে বিস্তর প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু সাথে সাথে আমি এটাও বুঝতে পেরেছি- লাগামছাড়া দু:সাহস ও চলচ্চিত্রের জন্য নিজস্ব উৎসর্গ ব্যতিরেকে একটা পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের বিকাশ সম্ভব না। তাই জেনেবুঝেই ঝাঁপ দেয়া। প্রতিবন্ধকতাকে পথের অংশ মেনেই আগাচ্ছি। যাই হোক, অনেকখানি পথ পেরিয়ে শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব আছে, এটা কেউ বলতে পারবে না।’

রাসেল আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের ভিজুয়াল সম্পাদনার কাজ অনেকখানি এগিয়েছে। সাউন্ড ডিজাইন, গানসহ পূর্ণাঙ্গ মিউজিক ডিজাইনের কাজও চলছে। কালার গ্রেডের জন্য ইংল্যান্ডের এক কালারিস্টের সাথে কথাবার্তা চলছে। সবকিছু মিলিয়ে চলচ্চিত্র নৃ’র কাজ থেমে নেই। অনেক প্রতিবন্ধকতার মাঝেও এগিয়ে চলছি আমরা।’

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের রহমতপুরে নৃ’র চিত্রায়ন শুরু হয়। প্রায় দেড়শো মিনিটের মত হবে এ চলচ্চিত্রের শরীর। চলচ্চিত্রের মুখ্য চরিত্র বিশুর ভূমিকায় অভিনয় করছে বরিশাল জিলা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ইয়াসিন। পুরানো এ নগরের কাউনিয়া এলাকার মহাশ্মশানের দুই চণ্ডাল দিলীপ কুমার পাল ও রাঁধা বল্লভ শীল ছাড়াও এতে আরো আছেন তাসনুভা তামান্না, সিরাজুম মুনীর টিটু, হিরা মুক্তাদির, এসএম তুষার, দুখু সুমন, হ্যাভেন খান, ওয়াহিদা রহমান আভাসহ শতাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী। ওই চণ্ডাল জুটির জীবন দর্শন ও ভাবনা নিয়ে অর্ধযুগ আগে শুরু হওয়া গবেষণার প্রেক্ষিতে প্রসূত এ চলচ্চিত্রে বরিশালের মাধবপাশার ঐতিহাসিক জলাধার দূর্গাসাগরের প্রচলিত মিথ আর বাংলার সহজিয়া, দরদিয়া এবং মরমিয়া বোধ মাখামাখি হয়েছে। গণমানুষের কাছে এ চলচ্চিত্রের বার্তা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে গত জুনে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে নির্মাতা দাবি করেছিলেন, বাবা-মা-দাদা-দাদী-মামা-চাচা-খালা-খালু-বন্ধু-বান্ধব-আরশী-পরশী-আন্ডা-বাচ্চাসহ পরিবারের সকলকে নিয়ে হলে গিয়ে বাদামভাজা চিবুতে চিবুতে নিশ্চিন্তে উপভোগ করার মত সিনেমা হবে নৃ।

নৃ চিত্রায়নে তিনটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। মূল চিত্রগ্রাহক- ড্যানিয়েল ড্যানি। সাথে আছেন ক্যামেরা সঞ্চালক শ খি আ ঈয়ন ও দঈত আন্নাহাল। সিনেমার শিল্প নির্দেশক হিসাবে আছেন থিওফিলাস স্কট মিল্টন। শব্দগ্রহণ করছেন- এমআই সাইফ। পোষাক ও পরিচ্ছদ দেখছেন শাহরিয়ার শাওন। এছাড়া সম্পাদনার দায়িত্বে আছেন- সামির আহমেদ।



প্রাসঙ্গিক তথ্য
মনুষ্যত্ব রক্ষার যুদ্ধে বোধ প্রকাশের সবচেয়ে প্রভাবসঞ্চারী মাধ্যম চলচ্চিত্রকে হাতিয়ার হিসাবেই বেছে নিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থিম থিয়েটার উইজার্ড ভ্যালী। তারা মনে করে, এ দেশের সিনেমাও একদিন পৃথিবী শাসন করবে। গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে বরিশালের বিএম কলেজ এবং কলেজ রোড (বর্তমানে আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ সড়ক) কেন্দ্রীক সৃজনশীল আড্ডায় উইজার্ড ভ্যালীর জন্ম। স্থানীয় প্রযুক্তির সাহায্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, নাটিকা বা প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি এ বিষয়ক তাত্ত্বিকচর্চায় সীমাবদ্ধ ছিলো এর প্রাথমিক কর্মকাণ্ড। প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১০ সালে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলে সিনেমা নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে এটি নিবন্ধিত হয়।


কে এই রাসেল
বরিশাল নগরীতেই ১৯৭৬ সালের জুলাইয়ে রাসেল আহমেদের জন্ম। নগরীর কলেজ রোড এলাকাতে বেড়ে উঠেছেন কর্কট রাশির এ জাতক। প্রগতিশীল মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসাবে অনুশাসনের পাশাপাশি পেয়েছেন এক সুস্থ সাংস্কৃতিক বলয়। বই পড়া আর আঁকাআঁকির অভ্যাস হয়েছে তখনই। খেলাঘর করতে গিয়ে পরিচয় হয়েছে মঞ্চ নাটকের সাথে। কৈশোর কেটেছে ব্যান্ড মিউজিক আর সাহিত্য পত্রিকা করে। তারুণ্যে এসব চর্চা অব্যাহত রেখেই মেতেছেন ক্যামেরা-কম্পিউটার নিয়ে। ফটোগাফী-ভিডিওগ্রাফীর পাশাপাশি এডিটিং, গ্রাফিক্স ও এনিমেশন চর্চা করেছেন, করিয়েছেন। এরই ফাঁকে দৈনিকে শিল্প নির্দেশক ও সাংবাদিক হিসাবেও কাজ করেছেন। সংগঠক আর
আয়োজকের ভূমিকায়ও তাকে দেখা গেছে বহুবার। ক্লাবের কাজ থেকে শুরু করে ফিল্ম
ফ্যাস্টিভেল আয়োজন, সব জায়গাতেই সবচে কাজের মানুষ হিসাবে নিজেকে প্রমাণ
করেছেন। এসব করতে করতেই কখন যে চলচ্চিত্র নির্মাণের ভূতটা রাসেলে মাথায়
চেপে বসেছে, তা কেউ জানতেও পারেনি। বরিশালে বসেই তিনি নিভৃতে অডিও-ভিজুয়াল
কাজের উপযোগী একটি দল গড়ে তুলতে শুরু করেন। যাত্রা শুরু করে উইজার্ড
ভ্যালী।

রাসেল আহমেদ

২০১০ সালের শুরুতে রাসেল বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় আসেন। তিনি জানতেন, টেলিভিশনে প্রচারিত নাটক বা টেলিফিল্মে বাণিজ্যের চাপে শিল্প ভাবনা আড়ষ্ট হয় যায়। তবুও চলচ্চিত্র নির্মাণের আগে নিজেকে যাচাইয়ের জন্যই নির্মাণ করেন নাটক ‘ফ্লাই-ওভার’। দেশ টিভিতে প্রচারিত এ নাটকটি প্রচুর প্রশংসা কুড়ালেও তিনি আর নাটক নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হননি। মূল লক্ষ্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নিজেকে এবং নিজের টিমকে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করেন। চলচ্চিত্র চর্চার সাথে ক্যামেরা, রিগস, লাইটস ও এডিট প্যানেল সমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ইউনিট তৈরি করেন। অবশেষে ২০১২ সালে তিনি নৃ’র কাজে হাত দেন।

মন্তব্য করুন

হলি আর্টিজান স্মরণের দিনেই মাজারে শরিয়ত প্রতিষ্ঠায় আল্টিমেটাম!

ওরসে বাউল গানেও আপত্তি রূপগঞ্জের ওলামাদের, ‘জঙ্গি’ ট্যাগিংয়ের অভিযোগ।

Designed with WordPress

Discover more from One-man Newsroom বাংলা

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading