![]() |
| “চেনা যায়, শিশ্নোত্থিত রাষ্ট্র আর তার ব্যবস্থাপনাকে? চেনা যায়?”-সময়ের এ প্রশ্নটির উত্থাপক বন্ধু বাঁধন অধিকারী। |
“আপনাকে সমর্থন করি মানে সবকিছুতেই সমর্থন করতে হবে তা কিন্তু নয় প্রিয় প্রধানমন্ত্রী.. পহেলা বৈশাখে নারীর সম্ভ্রমহানীর ঘটনা ঘটেছে.. আপনি তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না নিলে প্রতিবাদ হবেই.. ওরা বাসে পেট্রলবোমা মারেনি.. ওরা পুলিশের মাথা গুড়িয়ে দেয়নি.. ওরা নারীর সম্মানহানীর প্রতিবাদে নেমেছে.. আপনি বিশ্বের সবচেয়ে নারীবান্ধব প্রধানমন্ত্রী.. এই প্রতিবাদে আপনিও সামিল জানি.. আপনার পুলিশ যে আঘাত করেছে সে আঘাত আপনার গায়েও লাগার কথা.. আপনি অনুভব করতে পারছেন না কেনো?” –এটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাট্যকার মাসুম রেজার সাম্প্রতিক (১০ মে, ২০১৫) ফেসবুক স্ট্যাটাস। নিউজ ফিডে গত ৪৮ ঘন্টা যাবত এ জাতীয় স্ট্যাটাসের আধিক্য যে হারে বেড়েছে, তাতে আমি শঙ্কিত। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘ডিজিটাল’ সরকারের আমলেই সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো নিষিদ্ধ বা বন্ধ করে দেয়ার নজির রয়েছে। অবশ্য আজকের ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পর নিউজ ফিডের চেহারা দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।
![]() |
| ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী ইসমত জাহানের সেই পাল্টা আঘাত |
লেখাটি শুরু করতে গিয়ে আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারী মরহুমা দাদী মরহুমা সৈয়দুন্নেছা বেগমকে মনে পড়লো খুব। দাদীর জন্ম হয়েছিলো রাজনৈতিক পরিবারে। তিনি ছিলেন ঝালকাঠীর বারৈয়ারা গ্রামের মীর মমতাজ উদ্দিনের জেষ্ঠ্য কন্যা। এই মমতাজ উদ্দিন একাধারে একজন জনপ্রিয় শিক্ষক এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন । তিনি এক নাগাড়ে ২৬ বছর নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তখন আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ‘প্রেসিডেন্ট’ বলা হত। পরে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের আমলে পদটির নাম ‘চেয়ারম্যান’ হয়ে যায়। সে যাকগে, মূল প্রসঙ্গে আসি। স্মৃতি হাঁতড়ে দেখি – দাদীর কাছেই প্রথম শুনেছিলাম ‘শ্যাখের বেটি’ -এর গল্প। তার কাছেই জেনেছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্ব-পরিবারে নিহত হওয়ার সেই নারকীয় কাণ্ড। খেয়াল আছে, জায়নামাজে বসেই দাদী আমার কৌতূহলী মনকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। আর একটু পরপরই ঘোমটার প্রান্ত চেনে মুছে নিচ্ছিলেন সজল হয়ে ওঠা আঁখি। নিহত বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার এবং বেঁচে যাওয়া দুই কন্যার জন্য দাদীর সে আবেগ, আজও ভুলতে পারিনি। হয়ত এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের সামনে অজস্র বিশেষন যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও আমার সবচেয়ে প্রিয় হয়ে রয়ে গেছে সেই ‘শ্যাখের বেটি’ উপমাটি।
প্রিয় দাদীর সেই ‘শ্যাখের বেটি’ গত ছয় বছর যাবৎ আমাদের প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ আজ আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান একজন নারী। তবুও আজ রাষ্ট্রই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় নারী নিপীড়ক! নাহ – নিপীড়ন, অত্যাচার, বস্ত্রহরণ, পাষবিক আচরণ বলে এই অপরাধকে আর হালকা করবো না। আজ থেকে এ জাতীয় ঘটনাকে শুধু যৌন সন্ত্রাস বা ধর্ষনই বলবো। দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনও আমায় সে অধিকার দিয়েছে। সেখানে বলা রয়েছে – “যদি কোনো ব্যক্তিঅবৈধভাবে যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তার শরীরের যে কোনো অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোনো নারীর শ্লীলতাহানী করেন, তাহলে তার এ কাজ হবে যৌন পীড়ন।” তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সব কিছু বাদ দিয়েও সর্বাগ্রে একজন নারী; যিনি কন্যা, জায়া, জননী – এ তিনটি স্তরই চেনেন। সেহেতু নিশ্চয়ই জানেন, নারীকে শুধু পুরুষাঙ্গ দিয়েই যৌন পীড়ন বা ধর্ষন করা হয় না। একজন কামুক পুরুষ তার প্রতিটি অঙ্গ ব্যবহার করে। অনেক সময় শুধু লোলুপ দৃষ্টিও যে কতটা অস্বস্তিকর হতে পারে – তা বোধকরি দেশের প্রতিটি মেয়েরই জানা আছে।
![]() |
| ইসমতের উপর পুলিশী পীড়নের আরো চিত্র |
বঙ্গাব্দ বরণ, তথা বাংলা নববর্ষ উদযাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটি চত্ত্বর সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে নারীদের বস্ত্রহরণ ও শ্লীলতাহানির যে ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পায়নি জাতি। এর আগের ও পরের প্রায় সকল ঘটনায় তিনি প্রেস সচিবদের মাধ্যমে কখনো শোক আবার কখনো শুভেচ্চা বার্তা, অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনার ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না দিলেও ঠিক পরের দিনই এ নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে অনলাইন পত্রিকা আমাদের বুধবার – এ প্রকাশিত একটি লেখায় শাহাদত হোসেন বাচ্চু বলেছেন, “বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে সফল, সুখী ও পরিতৃপ্ত মানুষটি কে? উত্তর হতে পারে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার পার করছে ষষ্ঠ বছর। গত বুধবার, বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে গণভবনে কলামিষ্ট, লেখক, টক শো’র আলোচক, সঞ্চালকসহ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তাঁর হাস্যোজ্বল চেহারায় ছিলো না কোন উদ্বেগ-উৎকন্ঠার ছাপ, ঠিকরে পড়ছিল গভীর আত্মবিশ্বাস। ওই মতবিনিময়কালে এবারের পয়লা বৈশাখ পালনের কথা বলছিলেন, টেলিভিশনে তিনি দেখেছেন। বিশদ উল্লেখ না করে ‘বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট’ বলে প্রসঙ্গান্তরে চলে গেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমরা অনেকেই বুদ্ধিমান নই কিম্বা বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাও করি না। ফলে আমরা আম-জনতা ইশারায় অনেক কিছুই হয়তো বুঝতে পারি না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে সকল বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাটি করেছেন, তারা হয়তো বুঝে গেছেন অনেক কিছুই।” শাহাদত হোসেন বাচ্চু আরো লিখেছেন, “আম-জনতা ইশারায় কিছুই বুঝতে চায় না। চাই একটু স্বস্তি-শান্তি আর জীবনের নিরাপত্তা। স্বস্তি-শান্তির বদলে জুটছে আতঙ্কিত জীবন-যাপন। আসলে জনগন ইশারায় কিছুই বুঝতে চায় না। তারা চায় সত্যিকার জনকল্যাণকর রাষ্ট্রাচারসম্মত গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার। প্রধানমন্ত্রী ইশারায় যদি সেটি বোঝাতে চেয়ে থাকেন, তাহলে জনগন তা অবশ্যই বুঝে নেবে।”
বৈশাখের সংঘবদ্ধ সেই যৌনসন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলনরত ছাত্র ইউনিয়নের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ইসমত জাহানের সাথে পুলিশ, মানে আইনের রক্ষকরা যে আচরণ করেছে, সেটা আইনানুযায়ীই ‘যৌন পীড়ন’। অর্থাৎ পুলিশ ভাইয়েরা পুনরায় প্রমাণ করলেন, তারা অর্থাৎ এ রাষ্ট্র শুধু যৌন পীড়নের সমর্থকই নয়, ক্ষেত্র বিশেষে নিজেই পীড়ক, ধর্ষক। অবস্থাদৃষ্টে আপন রাষ্ট্রকেই আজ যৌনসন্ত্রাসী বা ধর্ষক ভাবতে হচ্ছে হায়। শুধু আমাদের মা, বোনকে নয়; দেশমাতৃকাকেই ধর্ষন করছে রাষ্ট্রযন্ত্র। এতে অবাক হতাম না। কারণ হাজার বছর ধরে শোষণযন্ত্রের স্বভাবই যে এমন, তা সচেতন সকলেরই জানা আছে। কিন্তু ওই যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের চাবি এখন যার আঁচলে বাঁধা, তিনি সেই ‘শ্যখের বেটি’। তাকে বা আমাদের পুলিশ বাহীনিকে বিব্রত করার কোনো বাসনা নিয়ে এ্ই লেখা লিখতে বসিনি। শুধু রাষ্ট্রীয় প্রধানের কাছে আমার প্রশ্ন – পহেলা বৈশাখ ইস্যুতে আপনার ‘আনুষ্ঠানিক নিরাবতা’ কি নিপীড়কদের মানুসিক শক্তি বাড়ায়নি? এর পরবর্তী পুলিশী পীড়নের জন্যও কি পরোক্ষভাবে আপনিই দায়ী নন? এই দুটো প্রশ্নকে কারো বেয়াদবি মনে হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
![]() |
| মাসুম রেজার সেই স্ট্যাটাস |
চলতি বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “নারী সমাজের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। তাই তার সরকার নারী সমাজের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। যারা ইসলামের নামে নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তারা ইসলামের অনুশাসন মানে না।” একইসঙ্গে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেশের নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এটি গত ৮ মার্চ, ২০১৫ – একটি অনলাইন পত্রিকার খবর। এটা নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে এ বছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলো ‘নারীর ক্ষমতায়ন : নারীর উন্নয়ন’। ওই অনুষ্ঠানের আরেকটি খবরে বলা হয়েছে – নারী সমাজের উন্নয়নে নিজ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে আসে নারীদের কল্যাণে কাজ করে। এই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাংলাদেশের নারীদের কর্মস্পৃহা, দক্ষতা, ত্যাগের ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারীর অবস্থান সুদৃঢ় হয়েছে। সরকারের নারী উন্নয়নমুখী নীতির কারণে এখন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, জাতীয় সংসদের উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, অনেক বিচারক, সচিব, এমনকি ভিসিও হচ্ছেন নারী। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩টি সংরক্ষিত আসন সৃষ্টির মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে নারী নেতৃত্ব বিকাশে ফলপ্রসূ কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়নসহ নারী সমাজের উন্নয়নে ৬ বছরে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।” বাংলাদেশের সাউথ-সাউথ পুরস্কার ও নারী সাক্ষরতায় ইউনেস্কো ‘শান্তি বৃক্ষ পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার অর্জনের কথা ও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াও বাংলাদেশের জন্য এক বিরল সম্মান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এসব ভুলে যাইনি। শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রীও ভুলে যাননি নিশ্চয়ই। কারণ আমরা জানি তার সরকারই নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করছে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন-২০১০, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩, ডিএনএ আইন ২০১৪ এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ প্রণয়ন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটিও ছয় মাসে উন্নীত করেছে এ সরকার। সেই সাথে মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং ল্যাকটেটিং মাদার ভাতা চালু করেছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়গুলোও এখন জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করছে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়, এসব কি তবে শুধুই কাগজপত্রে হচ্ছে? নাহ, এমনটা আমি অন্তত মনে করতে চাই না। তবে মনে পরে যায় শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আজাদকে। কমপক্ষে ১০ বছর আগে নিজের “১০,০০০ এবং আরো একটি ধর্ষণ” উপন্যাসের মুখবন্ধে তিনি লিখেছিলেন – ‘বাঙলাদেশ এখন হয়ে উঠেছে এক উপদ্রুত ভূখণ্ড; হয়ে উঠেছে ধর্ষণের এক বিশাল রঙ্গমঞ্চ, ৫৬,০০০ বর্গমাইলব্যাপী পীড়নের এক বিশাল প্রেক্ষাগার। ধর্ষিত হচ্ছে মাটি মেঘ নদী রৌদ্র জোৎস্না দেশ, নারীরা।’
আন্দোলনরতদের ওপরে পুলিশের লাঠিচার্জের বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ গত ক’দিনে ঘেঁটে দেখলাম। পুলিশের লাঠিচার্জে আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ হওয়ার বিভিন্ন এ্যাঙ্গেলের অজস্র ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউবেই। ওগুলো একটু খেয়াল করে দেখলেই দেখবেন – ক্ষুব্ধ ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী ইসমত জাহান জলকামানধারী দাঙ্গাগাড়ির গায়ে ঢিল ছুড়ে মারার সাথে সাথে তাকে পিছন থেকে এসে এক থাপ্পরে ফুটপাতে শুইয়ে ফেলে একজন সুঠার দেহের পুরুষ পুলিশ। তিনি কোনো মতে উঠে পাশে দাঁড়ানো এক আলোকচিত্রীর পেছনে লুকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে – পুলিশ সদস্যরা তাকে ধটেনে হিঁচরে বের করে লাঠি দিয়ে পেটাতে পেটাতে ধাওয়া করে। এরপর তিনি দৌড়ে গিয়ে একটি গাছের আড়ালে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেও তাকে চুলির মুঠি ধরে বের করে এনে পিটাতে পিটাতে আবারো শুইয়ে ফেলা হয়।জানা হয়নি ওই পুলিশ সদস্য জানতেন কি’না, সেদিন ছিলো বিশ্ব মা দিবস। আর এই দিনে তিনি বা তারা যাকে পেটাচ্ছিলেন, তিনিও মায়েরই জাত। যে কি’না নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার দাবিতেই আজ রাজপথে, নিপীরকদের শাস্তির দাবিতে। ওই সদস্য না জানুক, তার কর্তারা তো জানতেন- বৈকি। এ কারণেই সেদিন ফেসবুকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলাম। চিঠিটি এখানেও সংযুক্ত করছি –
হে মহান বিজ্ঞ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), এ কথাগুলো সম্ভবত আপনার কান অবধি পৌছাবে না। তবুও বলছি, বিশ্ব মা দিবসে মায়ের জাতকে পিটানোর জন্য নারী পুলিশ ব্যবহারে আপনার গদি খুব একটা নরবরে হয়ে যেত না হয়ত। যৌনসন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলন দমাতে নারী পুলিশদের কি ওপর ভরসা রাখতে পারছিলেন না? আন্দোলন দমাতে এসে তাদেরও প্রতিবাদী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিলো কি’না সে আলোচনা আপাতত উহ্য রাখছি। শুধু একটু জানিয়ে রাখছি, নিজ বাহীনির নারী সদস্যদের ওপর আপনার এই আস্থাহীনতা, তথা নারীদের শায়েস্তার জন্য পুরুষ পুলিশ ব্যবহার এই জাতিকে ফের সেই শামসুন্নাহার হলের ঘটনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে। তবুও দেশের সুবোধ নাগরিকের মতো আমরা ট্যাক্সের পয়সায় আপনাদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করবো নিশ্চয়ই। পুনশ্চঃ পরে জেনেছি – “সেখানে পুলিশের নারী সদস্য থাকলেও তাঁরা নীরব ছিলেন।” লিখেছে দৈনিক প্রথম আলো।
![]() |
| অমি রহমান পিয়ালের স্ট্যাটাস |
বর্ষবরণ উৎসবে যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে লজ্জা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘সব নারীর কাছে’ ক্ষমা চেয়েছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান। পুলিশের ‘লোক দেখানো’ ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, “নববর্ষের অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন হয়রানি ও এ ঘটনা আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে- কী হিংস্রতা ও নগ্নতা আমাদের মনের গহিনে বাসা বেঁধেছে। কী ঘৃণ্য মানসিকতা আমাদের পেয়ে বসেছে।” এবার তিনি কী বলেন তা দেখারও অপেক্ষায় আছি।
ক্ষমতার চূড়ান্তে থাকা এক মা বা তার ছেলের এমন বক্তব্য প্রতিহিংসায় আস্কারা দেয় কি’না – সে প্রশ্ন এখানে তুলবো না। কারণ এটা আমি মনে করি না যে ওনারা ভুলে গিয়েছিলেন যে বেগম খালেদা জিয়াও সর্বাগ্রে একজন নারী, দেশের এক সম্মানিত নাগরিক। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া একজন নারীর কতটা সম্মান পাওয়া উচিত, তা’ও বোধকরি ওনাদের অজানা নয়। এমন একজন নারীর ওপর হামলার পর অমন বক্তব্য আরো কতটা ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিতে পারে – সে শঙ্কায়ও ছিলাম। হয়ত ছিলেন আরো অনেকে। ক’দিনের মধ্যেই প্রমাণ পেলাম – শঙ্কা ভুল ছিলো না। নগর নির্বাচনের দিন সারা ঢাকাতেই সরকার বিরোধী প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা যে পরিমাণ নিগ্রহের স্বীকার হয়েছেন, তার মধ্যে নারীর সংখ্যাও এক্কেবারে কম ছিলো না।
একই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেত্রী আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে আমার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। তাদের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন। তারা প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষের সামনে এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উত্তরা, কারওয়ান বাজার, ফকিরেরপুলের কাছে ও বাংলামোটরে আমার গাড়িবহরে পরপর চারদিন হামলা করেছে। বাংলামোটরে আমাকে বহনকারী গাড়ির উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেয় এবং হামলাকারীদের পুলিশ পুরোপুরি সহযোগিতা করে। সবচেয়ে মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে কারওয়ানবাজারে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। বহরের অনেকগুলো গাড়ি ভেঙ্গে ফেলে। হামলার সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আমি তখন সবেমাত্র গাড়িতে উঠে বসেছি। আমি যে-পাশে বসা ছিলাম, সেই পাশেই গাড়ির জানালার কাঁচে গুলি লাগে। এতে গাস ভেদ না করলেও তা ফেটে যায়। আলাহর রহমতে অল্পের জন্য আমার জীবন রক্ষা পায়। কতটা মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি করলে বুলেটপ্রুফ গাড়ির কাঁচ ফেটে যায়, তা সবাই বোঝে। এটা যে আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সুপরিকল্পিত হামলা ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।” প্রতিটি হামলার জন্য তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে বলেন, “প্রতিটি হামলার ঘটনাই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সরাসরি উস্কানির ফল এবং সুপরিকল্পিত। এসব হামলায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়।”
এদিকে যৌন সন্ত্রাস বিরোধী ‘পাল্টা আঘাত’ শীর্ষক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে যখন সোচ্চার হয়ে উঠেছে দেশের সচেতন সমাজ, ঠিক তখনই ফের ব্লগার হত্যার মতো ইস্যুও তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে নিখোঁজ এক জাতীয় নেতার (বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ) সন্ধান লাভ ও ফের ভূ-কম্পনের ঘটনাও এলোমেলো করে দিচ্ছে অনেক ভাবনার গতি-প্রকৃতি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মানসিক হাসপাতালে অবস্থানরত ওই নেতা বা নেপালে জন্ম নেয়া ভূমিকম্পের প্রভাব জনমনে কেমন হতে পারে তা বোধকরি সহজেই অনুমেয়।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকনের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে আরেকটি অনলাইন। ‘ছাত্রলীগকে জড়ানো হচ্ছে গোষ্ঠীস্বার্থে : প্রধানমন্ত্রীর ডিপিএস’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই সংবাদে বলা হয়েছে, “পহেলা বৈশাখের ঘটনায় দেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নামে কুৎসা রটানোর অপপ্রয়াস রুখতে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন।” তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসটিও এখানে তুলে ধরা হলো –
গরু ঘাস খায় / আমি গরু খাই। সুতরাং আমি ঘাস খাই … যুক্তি বিদ্যার যুক্তিগুলো এইরকমই। যা অবশেষে ভুল প্রমাণিত হয়। “যেহেতু সুশীলদের কাছে সব দোষের দোষী ছাত্রলীগ হয়। সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতনের যে ঘটনা এটা ছাত্রলীগই করেছে।” কিছু অশিক্ষিত/অর্ধ শিক্ষিত মানুষ এই রকম যুক্তি দিয়েই ছাত্রলীগের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে কিছু পেইড পেশাজীবীও রয়েছেন। কারণ সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, সরকার সমর্থক প্রার্থীদের হারানোর জন্য এটা খুব বার্নিং ইস্যু। যেমন গত নির্বাচনে ছিল হেফাজত ইস্যু। অথচ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী, যিনি মেয়েটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুস্কৃতিকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন তিনিও কিন্তু প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠন এর নাম বলেননি। নিশ্চয় দুস্কৃতিকারী কুলাঙ্গারগুলো ছাত্রলীগ কেন্দ্রিক হলে তার জানার কথা। কারণ উদ্ধারকারীরাও ৭/৮ বছর ধরে ক্যাম্পাসে রাজনীতি করছেন। সুতরাং প্রতিপক্ষকে চেনার কথা। যারা কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া ছাত্রলীগকে দোষারোপ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা কি জানেন, আপনিও যে ওই “কুলাংগারদেরই একজন।” কারণ আপনি, আপনার গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে আসল কুলাঙ্গারদের বাঁচিয়ে দিচ্ছেন।
কার জানি এক লেখায় পেয়েছিলাম, সেই সুদূর অতীতে – বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেই (১৯৭৩ সালে) শহীদ মিনারে ছাত্রীদের ওপর হামলে পড়ার মতো ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে আছে। তাদের বর্তমান উত্তারাধিকারীরা সেই ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রেখেছে। এই ছাত্রলীগ তৈরি করেছিলো সেঞ্চুরিয়ান ধর্ষক। তাদের এ জাতীয় অনাচার নিঃসন্দেহে ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাতিয়ার।
>> অভিজিৎ রায়ের খুনিরা এখনও ধরা পড়েনি/চিহ্নিত হয়নি, ওয়াশিকুর বাবুর খুনিরা জনগণের তৎপরতায় ঘটনাচক্রে ধরা পড়লেও পেছনের ব্যাক্তি বা সংগঠন এখনও ধরা পড়ে নি। হুমায়ুন আজাদ হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে নাস্তিক অভিযোগে যাদের উপরই হামলা হয়েছে, সেসবের কোন তদন্ত কাজেই সন্তুষ্ট হওয়ার মত কিছু দেখি না। ক্ষমতাবানরা বিপন্ন বোধ করলে যেভাবে পুলিশ কিংবা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনী মাঠে নামে, অন্যান্য আরও ঘটনার মতো এই হত্যাকান্ডগুলোর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে মূল হোতা সনাক্ত করার ব্যাপারে তেমন কোন আগ্রহ নেই। যে কারণে পেছনের মূল শক্তি তো দূরের কথা রেদোয়ান রানা কিংবা মাসুম ভাইদের মতো সামনের সারির সমন্বয়করা পর্যন্ত ধরা পড়েনা। এ রকম একটা বাস্তবতাই লেখক অনন্ত বিজয় দাসকে কুপিয়ে হত্যার পরিসর তৈরি করে দিয়েছে।>> নাস্তিকতার কারনেই একের পর এক হত্যা কারা হচ্ছে বলে মনে হলেও নাস্তিকতাকে পুঁজি করে হত্যার পেছনে অন্য কোন মোটিভ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায়না। ইতিহাস বলে, নাস্তিক আস্তিক হিন্দু মুসলিম ইত্যাদি বিভিন্ন দাঙ্গা হামলা আক্রমণ ইত্যাদির পেছনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পারলৌকিক বিষয়ের চেয়ে ইহলৌকিক নানান বিষয় কাজ করে। নাস্তিকতা বিষয়টি তো বাংলাদেশে নতুন নয় কিন্তু এভাবে চাপাতি সহ হামলা তুলনামূলক নতুন। কি এমন ঘটলো যে কিছু লোক ব্লগারদের উপর চাপাতি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ছে? মাদ্রাসা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ধর্মপ্রাণ কিশোর বা তরুণটি হামলা করছে, সে হয়তো ধর্ম রক্ষা করছে ভেবেই হামলাটি করছে, কিন্তু যারা তার ভেতরে থাকা ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তাকে উসকে দিচ্ছে, চাপাতি সর্বরাহ করছে, ভিকটিমের নাম ঠিকানা ছবি হাতে ধরিয়ে হামলায় উদ্বুদ্ধ করছে- তারা স্রেফ ধর্মরক্ষার জন্য করছে এরকম আমার মনে হয় না। এর পেছনে ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একেবারেই ইহজাগতিক স্বার্থসিদ্ধির বিভিন্ন কার্যকারণ থাকতে পারে।কিন্তু মূল হোতারা চিহ্নিত না হলে আসলে এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত কিছু বলা মুশকিল।
>> জঙ্গিবাদের উত্থানে সরকারের মুখের কথা আর কাজের মধ্যে কন্ট্রাডিকশান স্পষ্ট।মুখে জঙ্গিবাদ দমণের কথা বললেও এবং জঙ্গিবাদ বিরোধীতার কথা বলে রাজনৈতিক ফায়দা লূটলেও- প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানান উপায়ে নিজেরাই ধর্মের রাজনৈতিক ব্যাবহার করে, বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনকে পৃষ্ঠপোষকতা করে- যা ধর্মীয় জঙ্গিবাদ উত্থান ও লালন পালনের বাস্তব পরিসর তৈরী করে।
![]() |
| নিহত লেখক – ব্লগার অনন্ত বিজয় |
– স্বজাতি বা মনুষ্যকূলকে
নিজেরাই ডেকে এনে বালা
সব্বাই খুব উদ্বিগ্ন শালা !!
এতেই করছো বাপ বাপ
কেবল তো খেলে তলঠাপ;
আসছে মহাদূর্যোগ মামা-
ক্ষেপেছে স্রষ্টা বা প্রকৃতি মা।
বলছি এই যে এত বোমা-
গুলি আর গোলার বিক্রিয়া
– বিচ্ছুরণ বাড়ন্ত যে তেজে
এড়াতে পারবে ভেবেছিলে?
নাকি এতই ব্যস্ত তোমরা
ভাবার সময় নেই কারো
ভারসাম্য নষ্টকারী কারা
ক্ষমতা লিপ্সায় পথভ্রষ্ট-
আর থাক, ভেবেছ যথেষ্ট।এবার আসো তাদের দেখি
অভিশপ্ত মসনদে যারা –
হাতে হাত ধরে চলো যাই
দেই সিংহাসন ধরে নাড়া।
![]() |
| লেখাটি প্রকাশের আগেই এলো নতুন সংবাদ ! |
অন্যান্য পোস্টঃ
বাংলা জাগবেই জাগবে…
আহা কী অর্জন – কারচুপি, বর্জন …
ইসলামে ‘বেপর্দা’ নারীও নিরাপদ
বর্ষবরণে বস্ত্রহরণ কী পরিকল্পিত !
এ কোন উগ্রবাদের মহড়া …
যদি মনে শঙ্কা বিরাজে, সরকার লাগে কি কাজে ?
বিএম কলেজের একাংশে নারীরা নিষিদ্ধ !
বিশ্বের চেয়ে দেশের শান্তিরক্ষা কঠিন !








এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান