📷 ওয়ানম্যান নিউজরুম কোলাজ

📷 ওয়ানম্যান নিউজরুম কোলাজ

শরীফ খিয়াম আহমেদ

তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পেশাদার সাংবাদিকের জন্য এক ধরনের ‘অদৃশ্য দেয়াল’। জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদের খনি—এমন বহু রাষ্ট্রীয় দপ্তরে কোন সাংবাদিক সহজে প্রবেশ করতে পারবেন, আর কে পারবেন না, তা এই কার্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বাংলাদেশ সরকার।

জনরোষে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে বিদেশি গণমাধ্যমে কাজ শুরুর পর একাধিকবার আমার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড নবায়নের আবেদন গৃহীত হয়নি। পিআইডির তৎকালীন কর্মকর্তারা নানা আইনকানুনের দোহাই দিয়ে আমার কার্ডটি আপডেট করেননি। এ নিয়ে বহুবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলাম। যেহেতু আমি ভাইরাল বা সেলিব্রিটি জার্নালিস্ট না, তাই কোনো কাজ হয়নি।

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের নতুন নীতিমালায় অযৌক্তিক সব বিধান রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আর নবায়নের আবেদনই করিনি। এখনো সেই নীতিমালা বলবৎ আছে। কিন্তু সংসদ অধিবেশন যেভাবে জমে উঠছে, তাতে আর তর সইছে না। এমন প্রাণবন্ত সংসদ অধিবেশন টিভিতে দেখে মোটেই পোষাচ্ছে না। আবার বিশেষ কমিটির কর্মকাণ্ড আরেকটু গভীরভাবে দেখারও লোভ হচ্ছে। আসলে যারা আমাকে অনেক দিন থেকে চেনেন, তারা জানেন—আই লাভ পার্লামেন্ট রিপোর্টিং। তাই খুব শিগগিরই আবারো কার্ডটি নবায়নের আবেদন করবো। দেখা যাক, এই দফায় কী অভিজ্ঞতা হয়।

আমার সাবেক কর্মস্থল বেনারনিউজ দীর্ঘ সময় বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে ‘অনানুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ’ ছিল। এই ‘ইনভিজিবল সেন্সরশিপ’ বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধার কারণে বেনারের বাংলা টিমের সংবাদকর্মীদের প্রতিনিয়ত পেশাদার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমন সময়ে আমার কাছে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না থাকাটা ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার সূচনা। সরকারি দপ্তরের ধরাবাঁধা গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে সরাসরি জনমানুষের কাছে গিয়ে কাজ করা আমার সাংবাদিকতাকে এক নতুন গভীরতা দিয়েছে। সেই লড়াই ও মাঠের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ শেয়ার করেছিলাম ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেনারনিউজের এক অনুষ্ঠানে।

আপনারা অনেকেই জানেন, ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন প্রশাসনে বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের ফলে ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়া (ইউএসএজিএম)-এর বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়। এর সরাসরি প্রভাবে বেনারনিউজ, রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ) এবং ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ)-তে ব্যাপক জনবল ছাঁটাই বা ‘লে-অফ’ ঘটে। তবে আশার খবর এই যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন কংগ্রেসে একটি ‘বাইপার্টিজান’ সমঝোতার মাধ্যমে ইউএসএজিএম প্রয়োজনীয় ফান্ড বরাদ্দ পেয়েছে। এমনকি গত মাসে (মার্চ ২০২৬) আদালতের একটি যুগান্তকারী রায়ে পূর্ববর্তী অনেকগুলো ‘লে-অফ’ বা ছাঁটাইকেও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ধীরে ধীরে আরএফএ ও ভিওএ-র কর্মকাণ্ড ফের বিস্তৃত হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে ওয়াশিংটন ডি‌সি থেকে যেটুকু জানতে পেরেছি, বেনারনিউজ সম্ভবত আর আগের কাঠামোতে ফিরছে না। এটি সরাসরি আরএফএ-র ‘বাংলা সার্ভিস’ হিসেবে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে। ভবিষ্যতে সেই টিমে আমার থাকা হবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এটা নিশ্চিত যে বেনারনিউজে কাজ করার সময় আমি সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বাদ পেয়েছিলাম।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান