ভারতীয় টি-৫৫ ট্যাংকগুলো ভারত–পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত ভেদ করে ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে। ক্যাপশনে এমনটাই লিখেছিলেন ১৯৭১ সালের এই দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্ধী করা ফটোসাংবাদিক হেইঞ্জ বাউমান।

নিউজম্যান, ঢাকা

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ছিল শুক্রবার। এই দিনে পাকিস্তান সেনারা ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের বিমানঘাঁটিগুলোতে আকস্মিক হামলা চালায়, ফলে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয়। মুক্তিযোদ্ধা, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বহু লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের মোড় ঘোরানো এই দিনে চূড়ান্ত পর্বে প্রবেশ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।

মূলত এই দিন থেকেই তৃতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়, যা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের পাশে দাঁড়ায়, আর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করে। তখন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন মঈদুল হাসান। এই লেখক ও গবেষক তাঁর মূলধারা ৭১ বইতে লিখেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ ২৫শে মার্চকেই পাকিস্তানের যুদ্ধারম্ভের দিন বলে গণ্য করলেও বিশ্বের চোখে ৩রা ডিসেম্বরই পাক-ভারত যুদ্ধ আরম্ভের দিন। এর আগে মূলত পূর্ব বাংলার সীমান্তে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বাহিনীর মধ্যে যেসব সশস্ত্র সংঘর্ষ চলে আসছিল, তা সীমান্ত সংঘর্ষ হিসেবেই পরিগণিত।”

এদিন বিকেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতার এক বিশাল জনসভায় বক্তৃতাদানকালে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের সাতটি বিমানঘাঁটিতে (মুরিদ, মিয়ানওয়ালি, সারগোধা, চান্দার, রিসালেওয়ালা, শোরকোট ও করাচির মাসরুর) আকস্মিক হামলা চালায়। তিনি অবিলম্বে দিল্লিতে ফিরে যান। মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকের পর মধ্যরাতে তিনি রেডিওতে ভাষণ দেন। “সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের মূল্যবোধকে রক্ষার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন,” উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা সেই মূল্যবোধ যার জন্য আমরাও সংগ্রাম করেছিলাম, যে মূল্যবোধ আমাদের জীবনপথের মূল আদর্শ। আজ বাংলাদেশের যুদ্ধ ভারতের যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এই যুদ্ধ আমার সরকার ও ভারতের জনগণের ওপর বিরাট দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে। দেশকে যুদ্ধের মোকাবিলা করার জন্য তৈরি করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।”

“ভারতকে এ যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হবে, পাকিস্তানের আক্রমণ প্রতিহত করতে হবে এবং তা ঐক্যবদ্ধভাবেই প্রতিহত করতে হবে,” উল্লেখ করে আকাশবাণীতে প্রচারিত সেই বক্তব্যে ইন্দিরা গান্ধী আরও বলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার জন্য এবং শুধুমাত্র গণতন্ত্রের পক্ষে ভোট দেওয়ার অপরাধে একটি জাতির সমগ্র জনতাকে ধ্বংস করা থেকে নিবৃত্ত করার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য আমরা বারবার বিশ্বের কাছে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু মৌলিক কারণকে অবজ্ঞা করে বিশ্বের দেশগুলো শুধু কতিপয় নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করছে।” একই দিন নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট ভবনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং বলেন, “বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধ করার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালানোর জন্য ভারত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়ে আসছে। কিন্তু সে প্রচেষ্টা কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী আগমনে ও ভারত সীমান্তে পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ভারতের নিরাপত্তা বিপদসংকুল হয়ে পড়েছে।”

বিবিসি আর্কাইভ অনুযায়ী, ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ঘোষণা দেন যে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করেছে। বিমান হামলা ছিল ভারতের স্থল আক্রমণের প্রতিক্রিয়া—এমন দাবি করে ইয়াহিয়া বলেন, ভারত পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণ চালিয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা আত্মরক্ষার্থে লড়ছে। তিনি পাকিস্তানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেনাদের পাশে দাঁড়াতে বলেন এবং এ যুদ্ধকে দেশরক্ষার লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করেন। রাতে রাওয়ালপিন্ডিতে সরকারি এক মুখপাত্র বলেন, “পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। বিমানবাহিনী সেনাবাহিনীকে সাহায্য করছে। পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত রণাঙ্গনে যুদ্ধ চলছে। ভারতীয় বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানকে ঘিরে ফেলার প্রচেষ্টায় সীমান্তের সাতটি এলাকা দিয়ে প্রচণ্ড আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তারা কয়েকটা রণাঙ্গনে কিছুটা সুবিধা করে নিলেও সার্বিকভাবে পরিস্থিতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তবে এদিন পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যকার সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ঢাকার গভর্নর ডা. এ. এম. মালিক রেডিওতে ভাষণ দেন। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ঢাকায় সান্ধ্য আইন জারি ও নিপ্রদীপ (ব্ল্যাকআউট) পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পূর্ব পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীসহ সহকারী প্রধানমন্ত্রীর পদ মেনে নিতে রাজি আছেন—এমন জানান দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় এদিন পিপলস পার্টি চেয়ারম্যান ভুট্টো বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রীকে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে। তাহলে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হতে রাজি আছেন। যদি এই প্রস্তাব গৃহীত হয় তবে আগামীকালই মন্ত্রিসভা গঠন করা যেতে পারে।” ঠিক একদিন আগেই রাওয়ালপিন্ডিতে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম আজম সাংবাদিকদের জানান, ১৫ নভেম্বর গঠিত ডানপন্থী সাতদলীয় জোট সম্মিলিত কোয়ালিশন পার্টির (ইউসিপি) প্রধান নূরুল আমিনকে (পাকিস্তান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সরাসরি বিরোধিতাকারী) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হলে তাদের আপত্তি নেই। ১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের বাইরে শুধু এই নূরুল আমিনই পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিন পাকিস্তান সফররত মার্কিন সিনেটর উইলিয়াম স্যাক্সবি রাওয়ালপিন্ডিতে সাংবাদিকদের জানান, তিনি বেআইনি ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সাক্ষাৎ করতে পারেননি।

অন্যদিকে, ভারতীয় পূর্বাঞ্চল কমান্ডের লেফট্যানেন্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধিনায়কত্বে ঘোষিত হয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ড। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নাম দেওয়া হয় মিত্রবাহিনী। ভারতীয় সেনাদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল আরও বাড়ে। তারা বুঝতে পারে বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার। অর্থাৎ এরপর মুক্তিযোদ্ধারা আর একা ছিলেন না; ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে যৌথভাবে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করতে সক্ষম হন। এটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চূড়ান্ত বিজয়ের সূচনা এবং অখণ্ড পাকিস্তানপন্থীদের জন্য আসন্ন পরাজয়ের দিন। দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মরণপণ যুদ্ধরত বাংলাদেশের নিয়মিত সশস্ত্রবাহিনী, মুক্তিবাহিনী মিত্রবাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন রুট দিয়ে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থে লিখেছেন, “পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ভারতের কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে একযোগে বোমাবর্ষণ করে। প্রত্যুত্তরে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আমরা সবাই উল্লসিত, উপলব্ধি করলাম—যুদ্ধ শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না। পাকিস্তানের পরাজয় অবধারিত। স্থানীয় জনগণের সমর্থন হারিয়ে এবং ঘৃণার শিকার হয়ে কোনো সেনাবাহিনীর পক্ষে যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।”

এই দিন দেশের বেশ কিছু স্থান হানাদারমুক্ত হয়। মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা এলাকা ছেড়ে পিছু হটে পাকবাহিনী এবং তাদের দোসররা। তারা আশ্রয় নেয় শার্শার আমড়াখালি সদর ও পরের দিন আঞ্চলিক সদরদপ্তর নাভারণে। এর আগে, ২ ডিসেম্বর রাতেই বেনাপোল বাজার থেকে আড়াই কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে রঘুনাথপুর গ্রাম ছেড়ে পালায় পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা। তারা আশ্রয় নেয় প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে পোড়াবাড়ি নারানপুর মাঠপাড়ার ব্যাটালিয়ন সদরে। ৩ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে দুপক্ষের সম্মুখযুদ্ধের সময় কামানের গোলায় তছনছ হয়ে যায় নারানপুরে পাক সেনাদের চৌকি। মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে আগের দিন পাক সেনারা রঘুনাথপুর ইপিআর ক্যাম্প ছেড়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে বাঁচে।

বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পাওয়া মুক্তিবাহিনীর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের অধীনে দুই শতাধিক গেরিলা ও মিত্রবাহিনীর চতুর্মুখী আক্রমণের মুখে এদিন পাকবাহিনী ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ছেড়ে পালায়। গেরিলা নেতা শহীদুল্লাহ শহিদ, মকিমউদ্দিন আহমদ, আব্দুল আজিজ, বীরহলীর তালেবুর রহমান ও কাচন ডুমুরিয়ার আকতারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন মুক্তিসেনারা পীরগঞ্জে প্রবেশ করেন। এদিন বরগুনা ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়াও হানাদারমুক্ত হয়।

পাকিস্তানের “প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক” বা আগাম আক্রমণের মাধ্যমে তারা ভারতের বিমানশক্তি দুর্বল করতে চেয়েছিল। ভারতীয় বিমানবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি করে। গভীর রাতে পূর্ণাঙ্গ লড়াই শুরু হয়। চারদিক থেকে বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করে ভারতীয় সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী। আর মুক্তাঞ্চল থেকে যোগ দেন বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী। মূলত সদ্য গঠিত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীরই আক্রমণের সূচনা। তারা প্রথম সার্থক হামলা করে রাত সাড়ে ১১টায়। এ হামলায় নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও চট্টগ্রামের দুটি ফুয়েল পাম্প শোচনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর বাংলাদেশ ও ভারতের বিমানবাহিনীর সম্মিলিত বোমাবর্ষণে তেজগাঁও বিমানবন্দর ও কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আক্রমণ চলে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায়। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মক্ষমতা অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যায়। পরের ১৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশ-ভারত মিত্র বিমানবাহিনী লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হেনে পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে পঙ্গু করে দেয়। ভারতীয় নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী পাকিস্তান অধিকৃত বন্দর অবরোধ করে জলপথে সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। আক্রমণের প্রথমেই পাকিস্তানি বাহিনীর সাবমেরিন গাজীকে বঙ্গোপসাগরে সলিলসমাধি ঘটায়।

“শরীর ভালো ছিল না। তাই রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। আমার দেখাদেখি বাড়ির অন্যরাও। রাত দুটোর দিকে হঠাৎ বিমানবিধ্বংসী কামানের ট্রেসার মারার ফটাফট শব্দে জেগে গেলাম। কী হচ্ছে ঠিক যেন বুঝতে পারছিলাম না। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, শূন্যে আলোর ফুলঝুরি। বুঝলাম সারাদিন যে যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা নিয়ে সবাই চনমন করেছে, তাই সত্যি হতে চলেছে। খুব উত্তেজনা বোধ করলাম মনের ভেতরে, সে অনুভূতি যেন ছড়িয়ে পড়ল শরীরের পরতে পরতে। আর শুয়ে থাকতে পারলাম না। বাকি রাতটা আর ঘুম এল না। শরীফ, জামী, আমি—তিনজনে বিভিন্ন ঘরের বিভিন্ন জানালা ও বারান্দায় ঘুরে ঘুরে কাটিয়ে দিলাম।” শহীদ জননী জাহানারা ইমামের দিনলিপি অবলম্বনে প্রকাশিত একাত্তরের দিনগুলি গ্রন্থে এভাবেই সেদিনের কথা লিখেছেন।

তথ্যসূত্র: ন্যাশনাল আর্কাইভ, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঘাতকের দিনলিপিসহ  বিবিধ তথ্যভাণ্ডার।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান