ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

📷 ভিডিও থেকে নেওয়া

নিউজম্যান, ঢাকা

পাকিস্তানের মেগাসিটি করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ইরানপন্থী বিক্ষোভ চলাকালীন অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে রবিবার (১ মার্চ) এএফপি-কে জানিয়েছে একটি উদ্ধারকারী সংস্থা।

ইধি ফাউন্ডেশন নামের ওই সংস্থার মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন বলেন, “আমরা করাচির সিভিল হাসপাতালে অন্তত আটটি মৃতদেহ নিয়ে এসেছি এবং কনস্যুলেটের ওই ঘটনায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও জানান যে, হতাহতদের অধিকাংশেরই শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে। করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালকের বরাত দিয়ে কমপক্ষে নয়জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে পাকিস্তানের দৈনিক ‘দ্য ডন’।

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র খবরে বলা হয়েছে, ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে কয়েকশ ইরান-পন্থী বিক্ষোভকারী কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে দিনের শুরুতে শত শত মানুষ করাচির এই মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালায় এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করে।

আমেরিকা ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাভাদ জানান, ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত একজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক ভয়াবহ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই কনস্যুলেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল যুবক কনস্যুলেটের মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করছে, আর কাঁটাতারে ঘেরা ওই চত্বরের ওপর আমেরিকার পতাকা উড়ছে।

একজন তরুণ বিক্ষোভকারীকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না।” অন্য একজন বিক্ষোভকারী আগুন লাগানোর চেষ্টা ভিডিও করার সময় বলছিলেন, “আমরা করাচির আমেরিকান কনস্যুলেটে আগুন দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের নেতার হত্যার প্রতিশোধ নিচ্ছি।”

এদিকে লাহোর এবং উত্তরের শহর স্কার্দুতেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছে। বিকেলে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক পাড়ায় (যেখানে মার্কিন দূতাবাস অবস্থিত) বড় ধরনের বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান