৬ আগস্ট ২০২৪; ধ্বংসস্তূপের মাঝে পড়ে আছে একাকী এক হেলমেট। শেরেবাংলা নগর থানা তখন পুলিশশূন্য। পুড়ে যাওয়া গাড়ি আর মোটরসাইকেলের সারি সাক্ষ্য দিচ্ছে উত্তাল ধ্বংসযজ্ঞের। চারদিকে নিস্তব্ধতা, যেন থমকে আছে সময়।
📷 প্রতিবেদক
বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশ কেমন আচরণ করবে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমের নেতৃত্বাধীন আভিযানিক দলের আচরণ কি তারই নমুনা? সেখানে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় পুরো বাহিনীর পেশাদারিত্ব আর এখতিয়ারও যখন প্রশ্নবিদ্ধ, ঠিক তখনই নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পেল বাংলাদেশ।
অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ক্যাডার সার্ভিসের (বিসিএস, পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা এবং তাঁকে নিয়োগকারী নবনির্বাচিত সরকারের কাছে পেশাদার সাংবাদিক বা একজন নাগরিক হিসেবে কী চাই আসলে?
আগের দিন বিকেলেই ভাবছিলাম, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতীতে হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন গুমের শিকার। তাঁদের দুঃসহ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কি বাংলাদেশে থেকে এই জাতীয় ‘সরকারি নিপীড়ন’ বা ‘রাষ্ট্রীয় গুন্ডামি’ নির্মূলে সহায়ক হবে? রাতেই ডিসি মাসুদের অভিযান নজরে এলো।
একই দিন, অর্থাৎ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কেউ যদি পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “পুলিশের কাজে অবৈধভাবে বাধা বা হস্তক্ষেপ করা যাবে না। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক হোক, কেউ পুলিশের বৈধ কাজে বাধা দিতে পারবে না। তবে এখানে পুলিশের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের কার্যক্রমও দেখা হবে যেন জনগণ কোনো হয়রানির শিকার না হয়।”
“ফ্যাসিবাদী সময়ে শুধু পুলিশ নয়, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড়াতে হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে। সেই মোটিভেশনাল ওয়ার্কটা আমরা করছি,” উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আমি বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো, তাদের সাহস জোগাবো এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেবো। পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে লক্ষ্য রেখেই এগিয়ে যেতে হবে।”
ক্ষমতাগ্রহণের পর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণে (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, “নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে, আপনার আমার আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।” আইনের শাসন মেনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।”
অর্থাৎ সবমিলিয়ে পুলিশের উন্নয়ন আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে নতুন সরকার ইতিবাচক বার্তাই দিচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসার পরই পুলিশ যেভাবে তাদের আদি রূপে ফিরতে চাচ্ছে, অর্থাৎ পেটোয়া বাহিনী হয়ে উঠতে চাচ্ছে, সেটা ভীতিকর। এই ভয়ের অবসান ঘটাতে হলে পুরো পরিস্থিতিকে পুলিশের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে দেখাটাও জরুরি বোধকরি। পুলিশের উগ্র বা সহিংস আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ ও পেশাগত ট্রমার বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ ডিউটি, বিশ্রামের অভাব এবং প্রতিনিয়ত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মোকাবিলা তাদের মনস্তত্ত্বে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সংবেদনশীল এই সংকট নিরসনে কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ওয়ানম্যান নিউজরুমের সাথে। তাঁদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ বিদ্যমান থাকলেও তা ‘রুটিন হেলথ চেকআপ’ প্রোটোকল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে মূলত সমস্যার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ হিসেবে নয়। অথচ বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যদের পেশাগত কারণে সৃষ্ট ট্রমা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের (আইএসিপি) মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন অনুযায়ী, পুলিশ বাহিনীতে নিয়মিত এবং বাধ্যতামূলক ‘মানসিক স্বাস্থ্য চেকআপ’ প্রবর্তন করা এখন সময়ের দাবি। প্রতিটি সদস্যের জন্য বার্ষিক সাইকোলজিক্যাল স্ক্রিনিং নিশ্চিত করলে তাদের ভেতরের অবদমিত ক্ষোভ, ট্রমা ও ‘বার্নআউট’ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) একটি ডেডিকেটেড মনোরোগবিদ্যা ও সাইকোলজি বিভাগ রয়েছে। এখানে পুলিশ সদস্যরা বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে পারেন। কয়েক বছর আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ‘মনের যত্ন’ নামক একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা নিরসনে কাজ করা। বিভিন্ন ইউনিটে (যেমন—ডিএমপি বা বিশেষায়িত ইউনিট) মাঝেমধ্যে মোটিভেশনাল স্পিচ বা গ্রুপ কাউন্সেলিংয়ের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে কোনো বড় ধরনের সংঘাত বা ট্রমাটিক ঘটনার পর সদস্যদের ব্রিফিং বা ডিব্রিফিং করার চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে বাহিনীর ভেতর বা বাইরে মানসিক সমস্যার কথা বলাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার একটি সামাজিক প্রবণতা বিদ্যমান। এর ফলে অনেক সদস্য স্বেচ্ছায় কাউন্সেলিং নিতে দ্বিধাবোধ করেন জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশিং কালচারে মানসিক সমস্যাকে অনেক সময় ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখা হয়। কাউন্সেলিং বা থেরাপি নিচ্ছেন এমন সদস্যদের পেশাগত পদোন্নতি বা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না—এমন কঠোর নীতিমালা বা প্রটোকল তৈরি করতে হবে। তথ্য পুরোপুরি গোপন রাখার নিশ্চয়তা দরকার।
আইএসিপি-র মতে, একজন পুলিশ সদস্য অন্য একজন পুলিশ সদস্যের কাছে মনের কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অর্থাৎ বাহিনীর ভেতর থেকে কিছু সদস্যকে ‘পিয়ার সাপোর্ট অফিসার’ হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে, যারা সহকর্মীদের মানসিক কষ্টের প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝতে পারবেন এবং তাদের সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে সহায়তা করবেন। “বাংলাদেশ পুলিশের বিশাল সদস্য সংখ্যার বিপরীতে পেশাদার সাইকোলজিস্ট বা থেরাপিস্টের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে প্রতিটি সদস্যের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে,” বলেন ডিএমপির এক কর্মকর্তা।
কোনো এনকাউন্টার, বড় দুর্ঘটনা বা ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক ডিব্রিফিং সেশন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রটোকলে। এক্ষেত্রে ট্রমাটিক ঘটনার পরবর্তী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে অভিজ্ঞতার কথা শুনে পুলিশ সদস্যের প্রয়োজনীয় থেরাপি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এটি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার’-এ রূপ না নেয়।
দীর্ঘ ডিউটি আওয়ার এবং বিশ্রামের অভাব মানসিক চেকআপের গুরুত্বকে অনেক সময় পেছনে ফেলে দেয়। পুলিশ সদস্যরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষার মতোই বার্ষিক মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রক্রিয়াটিকে কোনো ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নয়, বরং পেশাদার সাইকোলজিস্টের কাউন্সেলিং হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
ডব্লিউএইচও-র কর্মক্ষেত্রের মানসিক স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, অত্যধিক কর্মঘণ্টা মানসিক বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। পুলিশের শিফটিং ডিউটি ব্যবস্থার সংস্কার এবং পর্যাপ্ত ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় টানা ডিউটি করার ফলে মস্তিষ্কের যে ‘কগনিটিভ টায়ার্ডনেস’ তৈরি হয়, তা দূর করতে নিয়মিত বিরতি নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সংবেদনশীল করে তুলতে হবে, যাতে একজন কমান্ডার বা এসপি তাঁর অধীনস্থদের আচরণের পরিবর্তন দেখে বুঝতে পারেন যে ওই সদস্য মানসিকভাবে ট্রমার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন।
অফিসিয়াল হিসাব অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের সময় ৪৪ জন পুলিশ নিহতের পরিসংখ্যান উল্লেখ রয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের নথিতে। পুলিশ একদিকে পেশাদার হত্যাকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, অন্যদিকে ভয়াবহ নৃশংসতারও শিকার হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকার জনমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর। কমিশন পুলিশ সংস্কারের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয় গত ১৫ জানুয়ারি।
প্রতিবেদনের ৬.২ অনুচ্ছেদে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, ছুটি এবং আর্থিক প্রণোদনা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদে মূলত পুলিশের কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং সদস্যদের ব্যক্তিগত কল্যাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কমিশন লিখেছে, “পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রকৃতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত এবং উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেশাগত কারণে সৃষ্ট ট্রমা ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পুলিশের অত্যধিক কাজের চাপ কমাতে এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ দিতে ছুটি প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সদস্যদের জন্য নিয়মিত বিরতিতে বাধ্যতামূলক ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সদস্যদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং বাহিনীর ভেতরে পেশাদার মনোবিদ নিয়োগের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থায় দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির কাছে একটাই প্রত্যাশা, পুলিশের মনের স্বাস্থ্যে নজর দিন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আগে যারা নিরাপত্তা দেবেন, তাদের মানসিক ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। একজন মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত বা বিপর্যস্ত সদস্য কখনোই মানবিক পুলিশিং উপহার দিতে পারবেন না। তাই পুলিশ বাহিনীকে আরও সংবেদনশীল, ধৈর্যশীল ও পেশাদার করে তুলতে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। একটি সুস্থ মনই পারে একটি সুস্থ সমাজ গড়তে।




এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান