ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
নিউজম্যান, ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ)।
সংগঠনটি মনে করে, এই ঘটনা দেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে বিব্রত করার একটি সচেতন প্রচেষ্টা। বিপিজেএ-র সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রবিন্দু এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকরা শুরু থেকেই সংসদের কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে আসছেন। বাংলাদেশের বিগত ১২টি সংসদের ইতিহাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কখনও এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।
বিপিজেএ-র পক্ষ থেকে তিনটি অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের দাবি, সংসদ সচিবালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার অদক্ষতা, অনভিজ্ঞতা এবং খামখেয়ালিপনার কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিপিজেএ নেতৃবৃন্দ কয়েক দফায় সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে অন্তত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সচিবালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শপথ অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ (কভার) করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক সমাজকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য সচেতনভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যারা গণমাধ্যমবিরোধী এবং অনভিজ্ঞ, তারাই এমন দূরত্ব তৈরি করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “এ ঘটনা দেশের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারকে বিব্রত করার শামিল। আমরা গণমাধ্যমের সাথে দূরত্ব সৃষ্টিকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিপিজেএ নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্যই সংসদে যান এবং সংসদের প্রতিটি কার্যক্রমের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই অধিকার খর্ব করা গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।


এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান