ছবি: বিজিবি

ছবি: বিজিবি

নিউজম্যান, ঢাকা

দিল্লি থেকে আটক বাংলাভাষী অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালী খাতুন ও তাঁর আট বছর বয়সী সন্তান মো. সাব্বির শেখ গত জুনের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পুশইনের শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে তুলে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। ভারতীয় হাইকমিশনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের কথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুশইনজনিত মানবিক ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরে রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টে (আইসিপি) আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুশইনের শিকার অন্তঃসত্ত্বা ভারতীয় নারী সোনালী খাতুন ও তাঁর আট বছর বয়সী সন্তান মো. সাব্বির শেখকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বিএসএফের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বার্তা প্রদানকারী মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

হস্তান্তর শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বিএসএফের এই অমানবিক পুশইন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পুশইনের এই কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকটের সৃষ্টি করছে এবং উভয় দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।”

“বিএসএফের অমানবিক পুশইন আচরণের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিজিবি মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুর প্রতি সুরক্ষা এবং চিকিৎসাগত ঝুঁকি বিবেচনা করে বিজিবির এই কার্যক্রম ন্যায়, মানবতা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে,” যোগ করেন তিনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া আরও বলেন, “বিজিবি আশা করে, পুশইনসহ এ ধরনের অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী কার্যক্রম বিএসএফ বন্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে সীমান্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ, মানবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া বজায় রাখবে।”

বিজিবির ভাষ্য, গত ২৫ জুন কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ছয়জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন করে বিএসএফ। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ঢোকার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করে। পরে গত ২২ আগস্ট আদালতের নির্দেশে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে মানবিক বিবেচনায় আদালত তাঁদের স্থানীয় জিম্মায় প্রদান করেন এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোনালী ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও উল্লেখ করেছে বিজিবি। বাহিনীর পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সোনালী বলছেন—শুধুমাত্র বাংলাভাষী হওয়ার কারণে তাঁদের দিল্লি থেকে আটক করে আসামের সীমান্তবর্তী জঙ্গলে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। “বিএসএফকে বললাম আমরা ভারতীয় নাগরিক, আমাদের ছেড়ে দিন—তারা মানল না,” বলেন তিনি।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান