মাজারের ভক্তবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের একজন সংগঠক বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ছবিটি তুলেছেন।
নিউজম্যান, ঢাকা, বাংলাদেশ
বাংলার হাজার বছরের লোকজ আধ্যাত্মিকতাচর্চার কমপক্ষে ছয়শ বছরের পুরানো একটি কেন্দ্র ঢাকার মিরপুরের হযরত শাহ আলী বোগদাদীর (রহ.) মাজার। সেখানকার পরিচালনা কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আক্রান্ত এক শতবর্ষী বটবৃক্ষ ও মাজারের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ রক্ষা এবং দেশজুড়ে চলমান সাধক, ফকির, পাগল ও বাউল পীড়নের প্রতিবাদ জানাতে শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
‘মাজারের ভক্তবৃন্দ ও নাগরিক সমাজ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের পক্ষে কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণী-পেশা-বয়সের মানুষকে এই আয়োজনে হাজির থেকে মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বার্তা প্রেরক লিখেছেন, “আপনারা জানেন, পীর মুর্শিদ, ফকির, দরবেশ, সাধু সন্তদের মাজার, দরগা, দরবার, আখড়া ইত্যাদি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভক্তি ও অপরকে ভালবাসা এবং অপরের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির তরিকা খোঁজার আকুতির ওপর মাজার গড়ে ওঠে। মাজার তাই দীনতা প্রকাশের জায়গা, অহংকারের নয়। মাজার ভক্তি ও সাধনার ক্ষেত্র। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বাংলাদেশজুড়ে এই গণপরিসরগুলো একের পর এক ভাঙা হচ্ছে।”
“মাজার ভাঙার এই মহোৎসব বাংলাদেশকে যেমন অস্থিতিশীল করে তুলছে, একইসঙ্গে বাংলার ভক্তি ও সাধনা, স্মৃতি ও ইতিহাসের ক্ষেত্রগুলোকেও ধ্বংস করবার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করছে,” বলেন মোহাম্মদ রোমেল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাজারবিরোধীরা যখন মাজার ভাংগতে তুমুল সরব, ঠিক তখন ঢাকার মিরপুরে হযরত শাহ আলী বোগদাদীর (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণের শতবর্ষী বটবৃক্ষের মোটা মোটা ডাল কেটে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে সিন্নিগাছ হিসেবে পরিচিত রওজা সংলগ্ন বটগাছের গোড়ায় মোমবাতি ও আগরবাতি প্রজ্জলন নিষিদ্ধ করেছে বর্তমান মাজার কমিটি।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, যে গাছের জন্ম হযরত শাহ আলী বোগদাদীর (রহ.) ব্যবহৃত লাঠি থেকে। বহু ভক্ত-আশেকান সেই গাছের নীচে মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালিয়ে মানত করতেন। মাজার কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে গাছের পাশে একটি বড় থালায় মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা রাখলেও এইটাকে হাজার বছর ধরে চলে আসা আধ্যাত্মিক চর্চার উপর আঘাত বলেই মনে করছেন ভক্তরা।
‘মাজারের ভক্তবৃন্দ ও নাগরিক সমাজ জানিয়েছে, মাত্র পাঁচমাস আগে মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসে গানের আসর নিষিদ্ধ জেনে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন অন্তবর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। মাজার কর্তৃপক্ষকে এ জাতীয় ‘হঠকারী কাজ’থেকে বিরত থাকারও আহবান জানিয়েছিলেন তিনি।
মাজারকে সংস্কৃতির অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন উপদেষ্টা। তারপরও মাজার প্রাঙ্গণে ওয়াজ আয়োজন করে গানকে ইসলাম ও কোরআনের শত্রু হিসেবে প্রচারণা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। শুধু এই মাজারেই নয়, আধ্যাত্মিকতাচর্চায় নানান বাধা বাড়ছে দেশজুড়েই। এই পরিস্থিতিতে সেই আহত গাছের গোড়ায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে মাজারের ভক্তবৃন্দ ও নাগরিক সমাজ।


এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান